আগামী এসএসসি-এইচএসসির আগে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খোলার ভাবনা

বিডিনিউজ  : আগামী বছর যারা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বসবে, তাদের কথা মাথায় রেখে সীমিত পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

তবে মহামারীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “আগামী বছর যারা এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা খুবই সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যঝুঁকি একেবারেই যাতে না থাকে এ রকম একটা ব্যবস্থা করে কী করা যায়, সেগুলো আমরা চিন্তাভাবনা করে দেখছি।

“যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয় তাহলে আমরা সে ধরনের সিদ্ধান্তে যাব।”

প্রতি বছর ১ ফেব্র“য়ারি থেকে এসএসসি এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। কোভিড-১৯ মাহামারীর মধ্যে এবার এইচসএসসি পরীক্ষা নেবে না সরকার। তার বদলে অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে।

দীপু মনি বলেন, “এবার যাদের এইচএসসি দেওয়ার কথা ছিল তারা কিন্তু পুরো সিলেবাস শেষ করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু আগামী বছর যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের পড়াশোনায় কিছুটা হলেও ব্যাঘাত হয়েছে। আট-নয় মাস ক্লাস করতে পারনি।

“তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য সীমিত পরিসরে হলেও এখন থেকেই নির্ধারিত পরীক্ষার আগ পর্যন্ত যদি সময় দেওয়া যায়, নির্ধারিত যে সিলেবাস, তা তারা হয়ত সম্পন্ন করতে পারবে। যদিও নানাভাবে ক্লাস করাচ্ছি। এরপরেও সীমিত পরিসরে হলেও তাদের ক্লাসরুমে নিয়ে এসে যেখানে যেখানে সমস্যাগুলো আছে তা দুর করতে চাই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অনেকেই বলছেন, স্কুলে আসার অভ্যাস চেলে যাচ্ছে। নানান বিষয় চিন্তাভাবনা করছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেওয়া হবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।”

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি এসএসসি পরীক্ষা পেছাতে হবে না। যদি প্রয়োজন হয় পরিস্থিতির কারণে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। তবে চেষ্টা করব সময়মত পরীক্ষা নেওয়ার।”

মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসায় আগে শিক্ষার্থীদের স্কুলে নির্বাচনী পরীক্ষা দিকে হবে কি না, তা নিয়েও কথা বলেন দীপু মনি।

“সীমিত পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসতে পারি কি না, এটাই এখনকার ভাবনা। কোনো না কোনো ধরনের অ্যাসেসমেন্ট হয়েই তারা পরীক্ষায় বসবেন। সেটা কী হবে, কী ধরনের হবে, সেটা পরিস্থিতি বুঝে আমরা জানিয়ে দেব। অ্যাসেসমেন্ট হয়েই তারা পাবলিক পরীক্ষা দিতে যাবে।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি পরীক্ষা বাকি থাকায় তাদের স্নাতকের ফল হচ্ছে না। এতে করে চাকরির পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারছেন না। এ নিয়ে একজন সাংবাদিক শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে দীপু মনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের পাঁচটি পরীক্ষা হয়েছে, আর কয়েকটি বাকি। কেউ কেউ এই পাঁচটি পরীক্ষার ভিত্তিতে অন্যগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা বলেছেন।

“কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে বা কারিগরিতে যারা আছেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ তাদের এটি চূড়ান্ত পরীক্ষা, এরপর তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। কাজেই সে পরীক্ষাগুলোর যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না হয়, তাহলে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হবে।… তাই পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “পরিস্থিতি এখনও যা আমরা মনে করছি, তাদের পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এদের সংখ্যাও অত বড় নয়। আশা করছি পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারব। আমি আহ্বান জানাব- এখন থেকেই যেন পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এক বা দুই মাস পর পরীক্ষা হলে যেন বলতে না হয় যে, ‘প্রস্তুতি নিতে পারিনি’।”

স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কোনটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ হবে- সে রকম একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে, যথাসময়ে সিদ্ধান্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।