যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর চাপ ওয়ার্ড থেকে সিড়ি পর্যন্ত,চরম দুর্ভোগ

 

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগী আর রোগী। শয্যায় রোগী, বারান্দায় রোগী, মেঝেতে রোগী, সিড়ির পাশে রোগী। রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে ৪৫২ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসক ও জায়গা সংকটের কারণে রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থার মধ্যে মারাত্মক দুর্ভোগে রয়েছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বারবার চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সংকট কাটানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় সাড়া দিচ্ছে না।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে,যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ রয়েছে ৫৪টি। কর্মরত আছেন ৪৪ জন। শূন্য রয়েছে ১০ চিকিৎসকের পদ। এছাড়া হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে রয়েছে ২৮ শয্যা। সেখানে ১২ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২ জন চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ১০ টি পদ পূরণে মন্ত্রনালয়ের কোন মাথা নেই। সূত্রটি আরো জানায়, মোট ২৭৮ শয্যার বিপরীতে এখানে গড় ৪০০ রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ায় বর্তমান জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হিমশিম অবস্থা। সেই সাথে মারাত্মক জায়গা সংকট রয়েছে। জনবল সংকেট মন্ত্রনালয়ে বারবার চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু সমাধানের কোন নাম নেই। গত বুধবারও (২৮ অক্টোবর) ৬০ চিকিৎসক, ১ জন উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, ১০০ জন সেবিকা ও ১৬৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন, মহিলা মেডিসিন ও লেবার ওয়ার্ডে রোগীর চাপে পা ফেলার জায়গা নেই। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের মধ্যে তিন তলার বারান্দা ছাড়িয়ে রোগীর ঠাই হয়েছে দুইতলার ওভার ব্রিজ ও সিড়ির পাশেও রোগীর দীর্ঘ সারি পড়েছে। এছাড়া করোনারী কেয়ার ইউনিটেতো রোগীর চাপ লেগেই আছে। হাসপাতালে এতো বেশি রোগীর চাপ যে নতুন রোগী বিছানা দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। যেখানে সামান্য জায়গা মিলছে সেখানেই রোগীর চিকিৎসার জন্য বিছানা দেয়া হচ্ছে। সিড়ির নিচে থাকতে দেয়া হয়েছে রোগী। বাঘারপাড়ার উপজেলা থাকা আসা এক রোগীর স্বজন শান্ত দেবনাথ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগী এই হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে রেফার্ড করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। তার রোগীকে দুই দিন আগে ভর্তি করা হলেও মাত্র একবার দেখে গেছেন চিকিৎসক। আরেক রোগীর স্বজন লোকমান হোসেন জানান,চিকিৎসাসেবা মিলছে না তেমন। নোংরা পরিবেশে থাকতে দেয়া হয়েছে। রোগীর চাপের অজুহাতে চিকিৎসক রোগীর কাছে ঠিকমতো আসছেন না।  এই বিষয়ে সেবিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা স্বজনদের বলছেন কি অবস্থা দেখছেন তো। এতো রোগীর মধ্যে সবার কাছে চিকিৎসক যাওয়ার সময়তো দেবেন। আরেক রোগীর স্বজন ইসমাইল হোসেন জানান, তার রোগী ভর্তি ৩ তলার ওয়ার্ডে। আর রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ তলার ওভার ব্রিজে। ফলে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা মিলছেনা। তার মতো অনেক রোগীর স্বজনের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা রাউন্ডে আসলেও রোগীর সাথে তেমন কথা বলছেন না। যেখানে সেখানে রোগী শুয়ে থাকায় চিকিৎসক সেবিকারা ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছেন না। সেবিকারা ওষুধ দিয়েই চলে যাচ্ছেন। রোগীর চাপের কারণে কথা বলার সময় নেই কারো। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, এমন পরিবেশে রোগীদের থাকার দৃশ্যে নিজেও কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই। এতো রোগীর জায়গা দেয়া অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল সংকটের মধ্য দিয়েও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। আরএমও আরো জানান, জনবলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। জানিনা কবে সাড়া পাওয়া যাবে। নতুন পদগুলো পূরণ হলে রোগীদের চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবে না। এছাড়া ভবনের ৪ তলার নির্মান কাজ শেষ হলে আর জায়গা সংকট থাকবেনা। ফলে রোগীদের চাপাচাপি পরিবেশে থাকতে হবেনা।