শ্যামনগর বাজারে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষর ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর বেতলাতলার মোড়ে যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সমবেশ পরবর্তী সংহিসতায় ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। দুইটি মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি শ্যামনগর বেলতলা বাজারে সাইফুল ইসলাম বাবু নামে যুবলীগের এক কর্মীকে মারপিট, ছুরিকাঘাত এবং দোকান লুটের অভিযোগে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন তার ভাই সাইদুল ইসলাম। বাবু শ্যামনগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে।

আসামি করা হয়েছে, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না (৫০)সহ ৮ জনকে। মুন্না ছাতিয়ানতলা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

অপর আসামি হলো, চুড়ামনকাটি রেল স্টেশনের পাশে হঠাৎপাড়ার আলম হোসেন (৪০), চেয়ারম্যান মুন্নার ভাই আব্দুল হান্নান (৪৫), ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০), শ্যামনগর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৪), মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল আজিজ (৪৫), চেয়ারম্যান মুন্নার ছেলে আব্দুল আওয়াল (২৮) এবং চুড়ামনকাটি গ্রামের মৃত আশকর কবিরাজের ছেলে ইছাহাক আলী (৫৫)।

সাইফুল ইসলাম বাবুর ভাই সাইদুর রহমানের দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ভাই যুবলীগের কর্মী। আওয়ামী লীগের গ্রুপিং এর কারণে এলাকায় আসামি চেয়ারম্যান মুন্নার সাথে তার মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণে মুন্নাসহ অপর আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময় খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১১ নভেম্বর বিকেলে যশোর শহরের গরিব শাহ বাজারের পাশে কাজী নাবিল আহমেদ এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের আহবানে সমাবেশে যোগদান করায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত ১২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই সাইফুল ইসলাম শ্যামনগর মোড়ে তার মুদি দোকানে বসে ব্যবসা করছিলেন। সে সময় আসামিরা মুন্নার নেতৃত্বে যায় এবং দোকানে বসা সাইফুল ইসলাকে বেআইনী ভাবে লাঠি সোঠা, লোহার রড, বাঁেশর লাঠি, হকিস্টিক, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে। তাকে বেদম মারপিট করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আসামিদের কেউ কেউ দোকানে ঢুকে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরি করে নেয়। পরে তার ভাইকে ফের হুমকি দিয়ে চলে যায়। আসামিরা চলে গেলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তার ভাইকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ দিকে ঘটনার পাল্টা মামলা করেছেন চুড়ামনকাটি শ্যামনগর গ্রামের আব্দুল আজিজ। তার দায়ের করা মামলার আসামিরা হলো, শ্যামনগর গ্রামের আশাড়ের ছেলে বাদল (৪০), আবুলের ছেলে টিপু (৪০), মহির ছেলে বাবু (৩৫), কোবাদ আলীর ছেলে কাওছার (৪৫), ছাতিয়ানতলা গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে রাসেল (৩৫) ও রক্সি (৩০), শ্যামনগর গ্রামের আব্দুস সুবর মেম্বার (৫৩), আফতাবের ছেলে শাহিন (৪৫) এবং সিরাজের ছেলে বাবু (৩০)।

আব্দুল আজিজ দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা এলাকায় চাঁদাবাজি, বোমাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১২ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেলতলা বাজার থেকে পায়ে হেঁটে শ্যামনগর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় আসামিরা তাকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ধরে এবং এলোপাতাড়ি মারপিট করে। তার লুঙ্গির গাটের মধ্যে রাখা ব্যবসায়ীক ৬৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ফের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করেন।