বাঁকড়া পারবাজারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পাঁচপোতা (বাঁকড়া পারবাজার নামে পরিচিত) খাইরুন নেছা (৩৫) এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দাবি করলেও তাকে মারপিট করার কারণে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

খাইরুণ নেছার স্বামী বাবলুর রহমান মিন্টু জানান, তার স্ত্রী সকালে গরুর খাদ্য তৈরি করছিল, এমন সময় মা কেমন করছে বলে তার বড় মেয়ে জানালে সে দৌড়ে এসে দেখে খাইরুন নেছা মাটিতে পড়ে আছে। পরে বাজারের এক ক্লিনিকের নার্স এসে দেখে বলে গৃহবধূ মারা গেছে। কিন্তু এলাকার লোকজন বলছে ভিন্ন কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, সকালে তাদের পারিবারিক ভাবে গণ্ডগোল হয়। সেই গণ্ডগোলের জের ধরে বাবলুর রহমান মিন্টু তার স্ত্রীকে মারপিট করার পরে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখন স্ট্রোক বলে এ আত্মহত্যাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী এক চায়ের দোকানদার জানান, ভোরবেলা আমি যখন দোকান খুলি, তখন ওদের বাড়ি চিৎকার চেচামেচি শুনে দৌঁড়ে গিয়েছিলাম। খাইরুন নেছার স্বামী বাবলুর রহমান তাকে মারপিট করছিল। পরে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আবারও কান্নাকাটির শব্দ শুনে গিয়ে শুনি সে মারা গেছে।

স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য জানান, সকালে তাকে মারপিট করা হয়েছিল, একারণে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা শুনেছি। তার শরীরে মারপিটের চিহৃ পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

মৃত খাইরুন নেছার মা রিজিয়া বেগমের কোন অভিযোগ নেই। তার মেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পারিবারিকভাবে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।

মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ফাঁড়ির ইনচার্জ ওয়াসিম আকরাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে খাইরুন নেছার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে অভিযোগ থাকে না, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।