বাড়িতে বসেই প্রতি শিক্ষার্থী পাচ্ছে ৫৫ প্যাকেট বিস্কুট

মিরাজুল কবীর টিটো : আগামী ৩০ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রকল্প। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের বিস্কুট বিতরণ থেমে নেই। প্রকল্পের শেষ ধাপে দুই উপজেলার ৭৭ হাজার ১৪১ শিক্ষার্থী পাচ্ছে ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৫ প্যাকেট পুষ্টিকর বিস্কুট। গত বুধবার থেকে শিশুদের বাড়িতে বাড়িতে বিস্কুট বিতরণ শুরু হয়েছে। এক একজন শিক্ষার্থী  তিন মাসের ৫৫ প্যাকেট বিস্কুট এক সাথে পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আগামী ডিসেম্বরে যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলায় প্রকল্পটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর শিক্ষার্থীরা আর বিস্কুট পাবে না। এদিকে করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রকল্প চলামান থাকায় শিক্ষার্থীদের খাবারের বরাদ্দ পূর্বের মতই আছে। যার ফলে বাড়ি বসেই শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে বিস্কুট। প্রকল্পের শেষ ভাগের বরাদ্দ বিতরণ শুরু হয়েছে গত বুধবার থেকে। চলতি সম্পাহের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে বিস্কুট পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অফিস।

শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে বিস্কুট দেয়ার কার্যক্রমের সহযোগী সংস্থা রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি তাদের কর্মীদের মাধ্যমে দুই উপজেলার ৭৭ হাজার ১৪১ শিক্ষার্থীর বাড়িতে বিস্কুট পৌঁছে দিচ্ছে।

সদরের বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন জানান অভিভাবকদের কাছে বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে বিস্কুট পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়। কারণ কোনো বিদ্যালয় কোনো গ্রামে থাকে এমনকি তাদের অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর পর্যন্ত  প্রকল্প কর্মকর্তারা জানেন না। বিদ্যালয় থেকে অভিভাবকদে ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হচ্ছে। তারা আসলে স্কুল ফিডিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে।

অক্টোবর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ৫৫ প্যাকেট বিস্কুট পাবে একজন শিক্ষার্থী। এর আগে প্রথম ধাপে ৩১ প্যাকেট, দ্বিতীয় ধাপে ৪০ প্যাকেট বিস্কুট পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

প্রকল্প সমন্বয় কালী আব্দুল আজিজ জানান, স্কুল বন্ধ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে পুষ্টিকর বিস্কুট খাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় এজন্য বাড়িতে বাড়িতে বিস্কুট পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া বিস্কুট পৌঁছে দেয়া সম্ভব না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, করোনা ভাইরাসের মধ্যে বাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাড়িতে বাড়িতে বিস্কুট  পৌঁছে দেয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম শিশুদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অগ্রণী ভুমিকা রাখছে।