যশোরে আরো ২২জনের করোনা  শনাক্ত, মাস্ক পরছেন না অনেকে

বিল্লাল হোসেন : যশোর জেলায় নতুন করে আর ২২ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তের মধ্য দিয়ে আক্রান্ত ৪৩শ’ পার হয়েছে। অর্ধেকের বেশি আক্রান্তের বসবাস সদর উপজেলায়। এছাড়া বর্তমানে প্রতিদিন শনাক্ত রোগীর সিংহ ভাগ সদরের। শুক্রবারও নতুন আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে ১৮ জনই সদরের।  এরপরেও জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। মাস্ক পরে চলাচল বাধ্যতামূলক হলেও মানছেন না অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। আর জেলা প্রশাসক বলেছেন, মাস্ক ব্যবহার আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে ১১২ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে। তাতে ২২ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৮ জন, শার্শা উপজেলায় ১ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ২ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ১ জন।

যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানান, জেনোম সেন্টারে যশোরের ২২ জন ছাড়াও মাগুরা জেলার ১৯ নমুনা পরীক্ষা করে ১ জন এবং নড়াইল জেলার ৯ নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের করোনা পজেটিভ ও ১১৬ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, এ পর্যন্ত জেলার ১৯৫৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল এসেছে ১৯৬৬৩ জনের। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ ৪৩১৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪০২৪ জন। নমুনা পাঠানোর চেয়ে ফলাফল বেশি হওয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন জানান, বিদেশ ভ্রমণের জন্য কিছু সংখ্যক মানুষ সরাসরি ল্যাবে নমুনা জমা দিয়েছেন। তাদের ফলাফল তালিকায় যোগ  হয়েছে।  সিভিল সার্জন আরও জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২৫৫৫ জন, মৃত্যু ৩৯ জন, শার্শা উপজেলায় আক্রান্ত ২৮৮ জন, মৃত্যু ২ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৭৬ জন, চৌগাছা উপজেলায় ১৬২ জন, মৃত্যু ৩ জন, মণিরামপুর উপজেলায় আক্রান্ত ১৬৪ জন, কেশবপুর উপজেলায় আক্রান্ত ২৭৫ জন, মৃত্যু ২ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১০৪ জন, মৃত্যু ১ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৪৯১ জন, মৃত্যু ৪ জন। মোট ৬১ জনের মধ্যে খুলনার হাসপাতালে ৫ ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জন মারা যান। বাকিরা যশোরে মারা যান।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় জনসচেনতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু যশোরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জনসচেতনতা দিন দিন কমছে। মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। যা মানুষের অসেচনতা ছাড়া আর কিছুই না। এসব মানুষের মাস্ক ব্যবহারে প্রশাসনের আরো কড়াকড়ি ভূমিকা পালন করা উচিত। হাঁচি-কাশি, শিষ্টাচার, ঘনঘন হাত ধোয়া, হ্যান্ডশেক না করা, কোলাকুলি না করা, রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, এগুলো মেনে চললেই হবে?

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, মাস্ক ব্যবহার আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের তিনটি টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি আইন মেনে চলার জন্য সকলের  প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।