অভয়নগর, মহম্মদপুর এবং রূপগঞ্জবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার- প্রধানমন্ত্রী

স্পন্দন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারে এসে সারাদেশে ব্যাপক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে বলেই এখনও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা সারাদেশে যোগাযোগের ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। যার ফলে, আজকে আমাদের অর্থনীতির চাকা অনেক সচল।’

তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘আরো অনেক কাজ আমরা শুরু করেছি সেগুলোও সম্পন্ন করবো, ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে যশোর, মাগুরা ও নারায়ণগঞ্জে তিনটি সেতু এবং পাবনায় একটি স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন কালে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই তিনটি সেতু মহম্মদপুর, রূপগঞ্জ এবং অভয়নগরবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার।’

তিনি এ সময় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে জনগণকে পুনরায় সচেতন করে দিয়ে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হচ্ছে- যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথের যশোর-খুলনা সড়কের ভাঙ্গাগেট (বাদামতলা) হতে আমতলা জিসি ভায়া মরিচা, নাউলী বাজার সড়কে ভৈরব নদীর উপর ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতি নদীর উপর এলাংখালী ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ১০০০০ মিটার চেইনেজে ৫৭৬ দশমিক ২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু। এছাড়া, উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দ্বার পাবনায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গণভবনের সঙ্গে সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর সংযুক্ত ছিল।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন এবং পাবনা প্রান্ত থেকে স্বাধীনতা চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী বক্তৃতা করেন।

এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রান্তে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রান্তে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীর প্রতীকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগী জনগণ নিজ নিজ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মিরাজুল কবীর টিটো জানান, সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষ থেকে সংযুক্ত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোর-৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-২ চৌগাছা ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন, যশোর ৪ বাঘারপাড়া আসনের সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায়, যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হুসাইন শওকত, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলী কুসার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক রফিকুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আলি হোসেন মনিসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, ভৈরব সেতুর উদ্বোধনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত  উম্মোচিত হলো। সেতুটি উদ্বোধনের ফলে যশোর-খুলনা মহাসড়কের সাথে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। স্থানীয়ভাবে ভৈরব সেতুতে একটি উদ্বোধনী মঞ্চ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে সব ধরণের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদীর ওপর ৯২ কোটি ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অভয়নগরবাসীর বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের এ ভৈরব সেতুটি। ১৫টি পিলারের কলামের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ৭০২.৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮.১ মিটার প্রস্থ এ সেতুটি।

এস আলম তুহিন, মাগুরা থেকে জানান, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতি নদীর ওপর এলাংখালী ঘাটে নবনির্মিত ৬০০.৭০ মিটার দীর্ঘ ‘শেখ হাসিনা সেতুর’ উদ্বোধন করেছেন। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড.বীরেন শিকদার, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আফাজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জুলিয়া সুকাইনা, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, পৌর মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম খানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্র্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর উপর শেখ হাসিনা সেতুটি নির্মিত হয়েছে।  উপজেলার এলাংখালী-জাঙ্গালিয়া ঘাটে ৬০০.৭০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৮০ মিটার প্রস্থ সেতুটি নির্মানে ব্যায় হয়েছে ‘ ৬৩ কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। মূল সেতু ছাড়াও এর দু’পাড়ে প্রটেকশনসহ এ্যপ্রোচ সড়কের মোট দৈর্ঘ ১ হাজার ১৭৬ মিটার। এর মধ্যে পূর্ব প্রান্তে ৪৬৬ মিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭১০ মিটার নতুন সড়ক নির্মিত হয়েছে।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, মধুমতি নদীর তীর ঘেষে কালের স্বাক্ষী হয়ে দায়িড়ে আছে শতাব্দির প্রচীন জনপদ রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী খ্যাত মহম্মদপুর উপজেলা। জেলার এই উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষ লোকের বাস। পার্শ্ববর্তি ফরিদপুর রাজবাড়ি ও গোপালগঞ্জ জেলা এবং রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধুমতি নদী ছিল একটি বড় বাধা। এই জনপদের মানুষদের উল্টো পথে মাগুরা সদর হয়ে এসব এলাকায় যাতায়ত করতে হতো। মধুমতি নদীর উপর একটি সেতুর চাহিদা ছিল দীর্ঘ দিনের। এই পরিপেক্ষিতে প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্র্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর উপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নির্মিত হয়েছে।

নবনির্মিত সেতুটি মাগুরা জেলার মহম্মদপুরের সাথে পূর্ব দিকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি, আলফাডাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া হয়ে পদ্ম সেতুকে সংযুক্ত করবে। ফলে মহম্মদপুর উপজেলা ও ঢাকা মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালি হয়ে দৌলদিয়া ঘাট পর্যন্ত সড়ক ব্যবহারকারিদের জন্য  ঢাকার সাথে দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। মহম্মদপুর থেকে পার্শ্ববর্তি শালিখা উপজেলা এবং নড়াইল জেলার লোহাগাড়া ও যশোর জেলার বাঘারপাড়া এলাকার জনসাধারণ সহজেই সেতুটি ব্যবহার করে রাজবাড়ি, ফরিদপুর ও ঢাকায় যাতায়ত করতে পারবে।