পুরুষ শূন্য মাগুরার নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রাম  ভাঙচুর লুটপাট ও হামলার আতঙ্কিত নারীরা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদরের হাজরাপুর ইউনিয়নে দু’টি হত্যাকান্ডের জেরে নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রামে একেরপর এক বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। লুটপাটকারীরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে থাকা সকল মালামাল, গরু, ছাগল, গবাদী পশু লুটপাটের পাশাপাশি শত-শত ফলবান বৃক্ষ পর্যন্ত কেটে ফেলছে। হামলা-মামলার ভয়ে পুরুষেরা গ্রাম ছেড়েছে। বাড়ির নারী সদস্যদের দিন কাটছে নিরাপত্তাহীনতায়। সব মিলিয়ে গ্রাম দুটিতে বিরাজ করছে চরম  আতঙ্ক। তবে পুলিশ বলছে, গ্রাম দুইটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

সদর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক দলাদলি নিয়ে শরিফুল মোল্লা ও জাকির হোসেন লিটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। (শরিফুল ও লিটন দুইজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত)। এ বিরোধের জের ধরে গত ১৬ নভেম্বর রাতে প্রতিপক্ষ শরিফুল মোল্যার লোকজন কুপিয়ে হত্যা করে জাকির হোসেন লিটনকে। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হামলা-মামলার ভয়ে শরিফুল মোল্লার সমর্থকেরা গ্রাম ছেড়েছে। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা এ গ্রামের  ২৫ থেকে ৩০ টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। বাড়ির সকল মালামালের পাশাপাশি লুট হয়ে গেছে গরু, ছাগল । ভাঙচুর, লুটপাট অব্যাহত থাকায় বাড়ির নারী ও শিশুদের দিন কাটছে চরম আতংকে। নন্দলালপুর গ্রামের সঞ্জু ও রঞ্জুর রহমানের মা আমেনা বেগম বলেন, তারা সামাজিক  দলের সাথে থাকলেও তার ছেলেরা মারামারি খুনোখুনির সাথে জড়িত নয়। তার পরেও লিটন খুনের পর ভয়ে তার ছেলেরা হামলা, মামলার ফলে বাড়ি ছেড়েছে। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ দলের লোকেরা দিনে দুপুরে তার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তার গোয়াল থেকে ৯ টি গরু ও ১০ টি ছাগল লুট হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তবে নিহত লিটনের এক চাচাতো ভাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ করলেও শরিফুল সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। এর আগে শরিফুল তার বাহিনী নিয়ে লিটনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালিয়েছে। এলাকার অনেক মানুষ নানাভাবে তার অত্যার, নির্যাতনের শিকার।

এদিকে, গত ১ নভেম্বর একই ইউনিয়ের ছাচানী গ্রামে মাছুদ মোল্লা নামে অপর এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে হত্যা করে। হাজরাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বারিক মোল্লা ও একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবু কালামের মধ্যে সামাজিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাছুদ মোল্লা বারিক মোল্লার সমর্থক। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ছাচানী গ্রামে চলে আসছে ব্যাপক বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট। বারিক মোল্লার সমর্থকেরা প্রতিপক্ষ আবু কালামসহ তার সমর্থকরে বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর লুটপাট চালায়। আবু কালামের পাকা বাড়ি ভাঙচুর কারে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির গরু, ছাগল লুট হয়েছে। বিশেষ করে তারা আবু কালামসহ তাদের সমর্থকদের কয়েক শত লিচুগাছসহ বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলেছে। বর্তমানে হামলা-মামলার ভয়ে এ গ্রামের আবু কালাম সমর্থক পুরুষ সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারনে নারী সদস্যদের দিন কাটলেও; রাত কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। ছাচানী গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী জাকেরা বেগম বলেন, মাছুদ হত্যার জের ধরে প্রতিপক্ষরা তার বাড়ি পাঁচটি ঘর ভাঙচুর করে, সব মালামাল লুট করেছে। বাথরুমে যাওয়া ও ওজু করার বদনা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। তার ও আবু কালামের কয়েক শ লিচু গাছ করাত দিয়ে কেটে ফেলেছে। পুরুষরা হামলা-মামলার ভয়ে বাড়ি উঠতে পারছে না। যে কারনে তারা নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। কারণ প্রতিপক্ষরা  নারীদের হুমকি দিয়েছেন বাড়ি না ছাড়লে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হবে। বাড়ি না ছাড়লে ইজ্জত নেয়া হবে। যে কারণে রাতে তারা রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হতে সাহস করেন না। সব সময় বিপক্ষ দলীয় লোকজন তাদের বাড়িঘর নজরদারিতে রেখেছে।                                                                                                                    তবে প্রতিপক্ষ নিহত মাছুদের বাবা দাউদ মোল্লা বলছেন, আবু কালাম ও তার ছেলেরা এলাকায় নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তারা শুধু তার ছেলে মাছুদকে কুপিয়ে হত্যা করে থেমে থাকেনি। তারা গ্রামে লুপপাট চালিয়ে তাদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, হাজরাপুর ইউনিয়নে নন্দলালপুর ও ছাচানী গ্রামে সামাজিক বিরোধ নিয়ে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুটি গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের ঘটনার পর গ্রাম দুইটিতে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করলেও, এখন শান্ত। পুলিশ সকল ঘটনার যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।