মণিরাপুরের দেড় শতাধিক শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল!

মিরাজুল কবির টিটো, মণিরামপুর থেকে ফিরে: ভুয়া নিবন্ধনে শিক্ষকতায় নিয়োজিত মণিরামপুরের দেড় শতাধিক ব্যক্তি আছেন আতঙ্কে। বছরের পর বছর সরকারি সুবিধা ভোগকারী শিক্ষকরা ধরা পড়ার ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দুএকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের এক আদেশের প্রেক্ষিতে নিবন্ধন সনদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকগণের ডাটা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ১০ নভেম্বর মণিরামপুরে এ তালিকার কাজ শেষ হয়েছে।

সূত্রমতে, ২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের নিবন্ধন প্রত্যায়নে নিয়োগ পাওয়াদের তালিকা তৈরি হয়েছে। এ তালিকায় মণিরামপুর উপজেলার বেসরকারী স্কুল-মাদ্রাসার ৬০১ শিক্ষক রয়েছেন। এরমধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহকালে ভূয়া নিবন্ধনে চাকুরী নেয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা এ অর্থ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভূয়া নিবন্ধনধারীদের মানুসিক চাপের মুখে রেখে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। শিক্ষকদের চাকুরী চলে যাওয়ার ভয় দেখানোও হচ্ছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, তাদের চাকুরী থাকা না থাকার বিষয়ে সম্পূর্ণ এখতিয়ার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে কেবলমাত্র তথ্য সংগ্রহ করে জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে সুবলকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবসায়ী শিক্ষার দেবাশীষ, গণিতের কল্যাণ কুমার রায়, শরীর চর্চা বিষয়ের সন্ধ্যা রানী মন্ডল এবং কম্পিউটার শিক্ষক শিমুল রায়ের নিবন্ধন প্রশ্নবিদ্ধ।  এ ছাড়াও ঝাপা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম, শ্রীপুর আলিম মাদ্রাসায় গণিতের শিক্ষক নুরজাহান, পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জীব বিজ্ঞানে শিক্ষক উত্তম কুমার পালিত প্রশ্নবিদ্ধ নিবন্ধন সনদ নিয়ে চাকরি করছেন।