সাকিবকে নিয়ে মুশফিকের মত তামিমেরও একই চাওয়া

স্পন্দন স্পোর্টস ডেস্ক : নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন আরও বেশ আগে। গত ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েছেন সাকিব আল হাসান। এরপর এখনও ক্রিকেটে ফেরা হয়নি তার। বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টি দিয়েই ক্রিকেটে ফিরছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিব আল হাসান ফিরছেন ক্রিকেটে, বিষয়টা যেমন সবার জন্য আনন্দের আবার তেমনি প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের জন্য অনেকটা অখুশিরও। এই যেমন বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টিতে জেমকন খুলনার হয়ে খেলবেন সাকিব। কিন্তু বাকি প্রতিপক্ষদের সবাই চাচ্ছে, সাকিব ভালো খেলুক, তবে তাদের নিজেদের বিপক্ষে নয়।

মুশফিকুর রহীম খেলবেন বেক্সিমকো ঢাকার হয়ে। তিনি এই অদ্ভূত প্রত্যাশা রেখেছেন সাকিবের কাছে। ঠিক একই প্রত্যাশা তামিম ইকবালেরও। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম বললেন, ‘সাকিব যেন আমাদের বিপক্ষে ভালো না খেলেন।’

তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ওর (সাকিব আল হাসান) জন্য অনেক বড় দিন। কারণ ও অলমোস্ট এক বছর পর মাঠে ফিরছে। ওর জন্য বড় দিন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ, ওর ক্যালিবারের মত প্লেয়ার ফেরত আসছে। আমি নিশ্চিত ওর ভক্তরা ওকে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবে। যেহেতু আমার জন্য এটা একটা খেলা, আমি চেষ্টা করবো ও যত কম ইমপ্যাক্ট যাতে ফেলতে পারে। দিনশেষে আমি খুশি যে ফিরছে, আমি নিশ্চিত হি উইল গো স্ট্রেংথ টু স্ট্রেংথ ফ্রম টুমরো।’

তামিম খেলবেন ফরচুন বরিশালের হয়ে। নিজের দল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখেন, একটা জিনিস। সেটা হল আমাদের দলে হয়তো নামিদামি ওরকম খেলোয়াড় নেই। তবে ক্রিকেটটাই এরকম একটা খেলা। সবাই যদি কাগজে কলমে শক্তিশালী হয়ে ম্যাচ জিতে যেতো বা টুর্নামেন্ট জিতে যেতো তাহলে অন্য কথা ছিল। আমি নিশ্চিত যে প্লেয়ারগুলো আছে আমার, তারা সবাই ক্যাপাবল। তারা কোন না কোন জায়গায় নিজেকে প্রমাণ অবশ্যই করেছে। আমার বিশ্বাস আছে যে তারা ভাল করবে। এটাই আশা করবো যে আমরা কালকের ম্যাচটা ভালভাবে শুরু করবো। কারণ, এক থেকে এগার সবাইই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। একটাই ব্যাপার যে তারা তরুণ। আমি নিশ্চিত তারা ভাল করবে।’

প্রথমদিনই দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে বরিশাল। প্রতিপক্ষ খুলনা। সাকিবের বিপক্ষেই তামিমের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই ট্রিকি হয়। কারণ প্রথম ম্যাচের আগে তো ওভাবে বোঝা যায় না ডিউটা (শিশির) কতটা ফ্যাক্টর হবে। লাইটের নিচে আমরা এখন পর্যন্ত অনুশীলন করিনি। আশা করছি ওরকম হবে না। যদি হয় তাহলে প্রথম ম্যাচে ওটা জাজ করা একটু কঠিন। আর বিশেষ করে যখন আপনি সেকেন্ড ম্যাচ খেলছেন। কমবেশি দুই ইনিংসেই (শিশির) থাকে। হয়তো প্রথম ইনিংসে একটু কম থাকে, তবে স্টিল থাকে। তো কালকের পরে দেখবেন অনেক ধরণের ম্যাসেজ ক্লিয়ার হয়ে যাবে, বুঝতে পারবে যে কি হচ্ছে, না হচ্ছে। যেহেতু ফার্স্ট ম্যাচ আমাদের দেখতে হবে এসব ফ্যাক্ট মিনিমাইজ করে যেনো ভালো খেলা খেলতে পারি।’

প্রতিপক্ষ জেমকন খুলনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই কাগজে-কলমে ওরা খুবই শক্তিশালী দল। তবে যেটা আমি বললাম যে ধরেন, আপনার টিমে যেই থাকুক না কেনো, সবচেয়ে বড় জিনিস হল বিলিভ করা। প্লেয়ারদের ওপর বিলিভ করা, যেটা আমার আছে। যেটা আমি বললাম, আপনি হয়তো বড় বড় নাম খুঁজে পাবেন না। তারা সবাই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। আমরা যদি এদের সাথে ভালো একটা স্টার্ট করতে পারি তাহলে এর চেয়ে ভাল আর কিছু হতে পারে না।’

খুলনা শক্তিশালী দল। ম্যাচের আগেই কি হার মেনে যাবে বরিশাল? এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, ‘না, এ রকম কিছু না আসলে। যখন দুইটা দল মাঠে নামবে, দুই দলই সমান। দুই দলই খেলতে আসছে। যদি এভাবে করে চিন্তা করে যাই, তাহলে সেটা দলের সাথে ফেয়ার হবে না। যে আগে থেকেই হার মেনে যাচ্ছি বা আগে থেকেই চিন্তা করে যাচ্ছি যে আমরা পারবো না।’

তামিম মনে করেন, সেরাটা দিলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা আমাদের সেরাটা দিবো। তারপর দেখবো যে কি হচ্ছে। আমরা যদি আমাদের সব কাজটা ভালোভাবে করি। এটাই যে একসাথে হয়ে আমাদের ভাল খেলতে হবে। এটাই হল গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আপনি দেখেন না যে, অনেক স্ট্রং টিম থাকে কিন্তু দিন শেষে তারা ট্রফিও জিততে পারে না। আবার দেখবেন কোন দল যারা অতোটা স্ট্রং না কিন্তু তারা ট্রফি জিতছে কারণ তারা ঐ টুর্নামেন্টে ভালো খেলছে। আমি আশা করছি আমরা এই টুর্নামেন্টে ভাল খেলবো। যদি আমরা ভাল খেলি তাহলে কে কাগজে কলমে শক্তিশালী তা ব্যাপার নয়।’