কিভাবে চলছে চৌগাছার কপোতাক্ষ  ক্লিনিকের ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম ?

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের চৌগাছা উপজেলায় কপোতাক্ষ ক্লিনিকের ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণার পরও কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মালিক পক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা চালু রেখেছেন। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, কপোতাক্ষ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বছরের পর বছর অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবিকা নেই। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলিস্ট (ল্যাব) ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম। যে কারণে পরিদর্শন টিম কপোতাক্ষ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করে। কয়েক দিন পরে ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম পরিচালনা করার মৌখিক অনুমোদন দিলেও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ অমান্য করে মালিক পক্ষ কপোতাক্ষ ক্লিনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ডায়াগনস্টিক সেন্টারও চালু করেছে। প্যাথলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান না থাকলেও করা হচ্ছে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

এই বিষয়ে কপোতাক্ষ ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে ক্লিনিকের পাশাপাশি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, কপোতাক্ষ ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রতিবেদন অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। লাইসেন্স দেয়া না দেয়ার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে লাইসেন্স পাওয়া আর না পাওয়ার যে ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করার মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেখানকার ডায়াগনস্টিক কার্যক্রমে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্যাথলজিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়াই পরীক্ষা নিরীক্ষা করার কারণে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়নি। যদি কপোতাক্ষ ক্লিনিকে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা হয় তাহলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।