বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় যশোরের ৬টিসহ খুলনা বিভাগের ২৭ প্রত্নস্থল

মিরাজুল কবীর টিটো : খুলনা বিভাগের তিন জেলা যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার ২৭টি প্রত্নস্থল নির্দশনের তালিকা করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সুরক্ষায় নিয়োজিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। এর মধ্যে যশোর জেলায় রয়েছে ৬টি প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিবর্তিত রুপরেখা ও নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপনে প্রয়োজনীয়তা মনে করে নতুন জীবনাচরণ, চিন্তা, সৃষ্টিশীলতা, উৎপাদন, সমাজ বিকাশসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেশন অনুসারে বিশ্বের ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে কালেক্টরেট সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও অংশগ্রহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে এ সভার আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে হেরিটেজ সেল।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক হান্নান মিয়া। তিনি সভায় বলেছেন,  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্রত্নস্থল অধিদফতর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সুরক্ষায় কাজ করে থাকে। খুলনা বিভাগের ২৭টি প্রত্নস্থল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তালিকায় সংযুক্ত করার প্রস্তাবনা নেয়া হয়েছে। এগুলো সুরক্ষার জন্য এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা এবং ঐক্যমত প্রয়োজন। সহযোগিতা ছাড়া এগুলো সুরক্ষা করা সম্ভব না।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন। এবিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারনা উপস্থাপন করেন খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।

বক্তব্য রাখেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.আহসান হাবিব, যশোর সরকারি এমএম কলেজের সহকারি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সোলজার রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক আহসান কবীর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

যশোরের ৬টি প্রত্নস্থল হলো, মণিরামপুরের খেদাপাড়ায় দহন সওদগারের বাড়ি, যশোর-মণিরামপুর সড়কের পাশে দমদম পীরস্থান, কেশবপুরের বহরত রাজার দেউল, বহরত রাজার কর্মচারির বাড়ি, কেশবপুরের মানিক ফকিরের বাড়ি এবং কেশবপুরের মজিদপুরে সাগরদাড়ি রোডে মীর্জা নগরের হাম্মাম খানা।