জীবননগরে আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা

মতিয়ার রহমান, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : দাম বেশি পাওয়ায় আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিদের মধ্যে আলু চাষে হিড়িক পড়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর আবাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবি মওসুমে অধিক লাভের আশায় আগে ভাগে চাষিরা জমি প্রস্তুত, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ উত্তোলন করে জমিতে আলু রোপনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের সব জায়গায় পুরোদমে আলু চাষের প্রস্তুতি। জমি প্রস্তুতের পর জমিতে ডায়মন্ড, গ্রানুলা, কার্ডিনাল জাতের বীজ আলু বপন করা হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় অনেক চাষি আমন ধান কাটার পর পরই জমিতে আলু রোপন করায় চারা গাছে পোকা-মাকড় দমনে স্প্রে করছেন। মওসুমের শুরুতে বাজার দর ধরতে পুরোপুরি ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।

জীবননগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি মওসুমে উপজেলায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড জাতের আলু বেশি চাষ হয়েছে। গত মওসুমে উপজেলায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরও ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত জীবননগর উপজেলায় এক হাজার ২৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আলু চাষিরা জমি প্রস্তুত করে আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে এবার আলুর আবাদ হবে।

উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের চাষি রমজান বলেন, গত দুই বছর ধরে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা আলু চাষে ঝুঁকছেন। তবে এ বছর শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি বীজেরও সংকট দেখা দিয়েছে। আমি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম খুবই ভাল। সার ও বীজের দামও অনেক বেশি। বাজারে প্রতি কেজি বীজ আলু ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আলু চাষি শ্যামল মিয়া বলেন, সারা বছর আলু ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মওসুমেও ভালো দামের আশায় অনেক চাষি আলু চাষে নেমেছেন। এবার আমি ১৬ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। এবছর বীজের চরম সংকট চলছে। বীজ সংকটের পিছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এবার এলাকায় যে হারে আলুর চাষ হচ্ছে,তাতে শঙ্কায় আছি মওসুমের শুরুতে আলুর দামে ধস নামে কি না! এলাকায় ৯৫ ভাগ চাষি  ইতোমধ্যেই আলু লাগিয়ে শেষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার শিরিন সারমিন বলেন, বছর জুড়ে আলুর ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর আলু চাষে চাষিরা ব্যাপক হারে ঝুঁকে পড়েছেন। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কৃষকেরা আলু বপন করতে পারবেন। অনেক কৃষক এ সময়ের পরও আলু রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। এ বছর উপজেলায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকেরা যাতে আলুর ভালো ফলন পান সে জন্য সার, সেচ ও পোকামাড়ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা দিচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ফলন ভালো হলে উৎপাদিত আলু এলাকার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে সরবরাহ করা যাবে। চাষিদের আলু চাষে বিশেষ প্রশিক্ষণ, কৃষক পর্যায়ে সরাসরি আলু ক্রয় এবং আলু চাষে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হলে চাষিদের আলু চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে কৃষকরা দাবি করেছেন।