কেশবপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসময়  ৮ হাজার ৭ শ ৩০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৩৮ হাজার ৫ শ ৫৬ মেট্রিক টন।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ২ শ ৪০ হেক্টর জমি। যার মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ৭ শ ৩০ হেক্টর জমি। গত বছর আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮ হাজার ৭ শ ৫৫ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছিলো ৯ হাজার ২ শ ৪০ হেক্টর জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক বিলের পানি সময়মত নিষ্কাশিত হয়নি। যার কারণে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা কম অর্জিত হয়েছে। তারপরও ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে কেশবপুর অঞ্চলের আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবং আমন চাষের উপকরণাদি সহজলভ্য হওয়ায় উৎপাদিত আমন ধান চাষের ৮ হাজার ৭ শ ৩০ হেক্টর জমির বাম্পার ফলন হয়েছে। আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষক সমাজ মহাখুশি।

কেশবপুর কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুমে ৮ হাজার ৭ শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৩৮ হাজার ৫ শ’ ৫৬ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং চাল উৎপাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৭ শ’ ৪ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১১ কোটি ৫২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক ইজ্জ্বত আলী জানান, কেশবপুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় দ্বিগুণ উৎসাহে বোরোর আবাদ করবে। তিনি নিজেও ৫ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করবেন বলে জানান।

কেশবপুর ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আমানুর রহমান জানান, চলতি বছর আমন চাষের সময় আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবং উপকরণাদি সহজলভ্য থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান কৃষকরা আমন ধান সংগ্রহে খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ জমির ধান সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আমরা খুব খুশি এবং পরিবেশ যদি অনূকুলে থাকে তাহলে আগামি বোরো মৌসুমেও কেশবপুরের কৃষক দ্বিগুণ উৎসাহে বোরো আবাদ করবে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, আমন মৌসুমে কৃষকরা আমনের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় তারা বোরো চাষে ব্যাপক উৎসাহিত হয়েছে। চলতি বোরো চাষের অনূকুলে সরকার কেশবপুরে ৪ হাজার কৃষককে ২ কেজি করে উন্নত জাতের বীজ ধান বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন এবং চলতি বোরো মৌসুমে কেশবপুরে ১৫ হাজার ৭শ’ ৫০ হেক্টর জমি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্রসড্যাম অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাষণের দাবি জানান।