চৌগাছার  উন্মুক্ত জলাশয়ে দখলদারদের হানা, গুলি ভর্তি ম্যাগজিন ও বাইক ফেলে পালালো দুর্বৃত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নের কালিয়াকুন্ডি গ্রামে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়তে গিয়ে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে দখলদাররা। এলাকাবাসীর অভিযোগ সোমবার দুপুরে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা পিস্তলের ম্যাগজিন ও এক রাউন্ড গুলি এবং একটি পালসার মোটর সাইকেল ফেলে যায়। পরে পুলিশ গুলি ভর্তি ম্যাগজিন জব্দ করেছে। এ ঘটনায় থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

দশপাকিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ জলিল উদ্দীন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী মইনুর হোসেন, ওমর ফারুখ, জাফর আলী ও আয়ুব আলী জানান, কালিয়াকুন্ডির উন্মুক্ত জলাশয় দখল করে মাছ চাষ করে আসছিল স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মমেনার স্বামী জুল হোসেন। দখল করে বেড়িবাঁধ তৈরি করে মাছ চাষ করায় এলাকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিল। এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম ও উপজেলা কমিশনার ভুমি নারায়ণ চন্দ্র পাল বিলটি অবমুক্ত ঘোষণা করেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে জুল হোসেন বিলে জোরপূর্বক মাছের পোনা ছাড়তে যায়। এ সময় জুল হোসেনের চার ছেলে তরিকুল ইসলাম, বাবুল হাসান, মজনু, রফিকুল ইসলাম, জুল হোসেনের স্ত্রী মোমেনা, সলুয়া গ্রামের আজিজ, রহিদুল্লাহ, শেখ পাড়ার আলামিন, চন্দ্রপুর গ্রামের মঙ্গলের ছেলে মামুনসহ ৪০/৫০ টি মোটর সাইকেলে জুল হোসেনের পক্ষে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। খবর পেয়ে গ্রামবাসীও বিলপাড়ে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে জুল হোসেনের ছেলে মজনু এলাকাবাসিকে টার্গেট করে গুলি ছুড়তে যায়। এসময় গ্রামবাসীর কোনো একজন মজনুর হাতে আঘাত করে। এতে মজনুর হাত থেকে পিস্ততলের ম্যাগজিন পড়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত জনগন মাইকিং করে তাদেরকে ধাওয়া করে। দখলদাররা গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।  খবর পেয়ে দশপাকিয়া ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি একটি নম্বরহীন পালসার (১৫০ সিসি) মোটর সাইকেল উদ্ধার করেন।

অবমুক্ত ঘোষণা করার পরেও গত ২১ অক্টোবর  উন্মুক্ত বিলে মাছ ধরার সময় এলাকাবাসীর উপরে হামলা চালিয়ে দখলদার জুল হোসেন ৪ জনকে আহত করে। সেসময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জুল হোসেনের নামে  চৌগাছা থানায় একটি মামলাও হয়।

এদিকে অভিযুক্ত জুল হোসেন বলছেন, আমি মাছ ছাড়তে যায়নি। শুনলাম সলুয়ার কেউ আমার ভেড়িতে মাছ ছাড়তে গিয়েছে। আমি ও আমার ছেলেরা সেখানে দেখতে গিয়েছিলাম; কারা আমার ভেড়িতে মাছ ছাড়ছে। এতে গ্রামের লোকজন আমার এক ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে। সে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমিও আহত। আমি চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, বিলের জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলা শেষ না পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছিল। জুল হোসেন হঠাৎই প্রশাসনকে না জানিয়ে নিজ ইচ্ছায় মাছ ছাড়তে গিয়ে ভুল করেছেন।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব বলছেন, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কমিশনার (ভুমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, বিলটি তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম ও আমি নিজে গিয়ে বিলটি অবমুক্ত ঘোষণা করি।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, সে সময় কি হয়েছিল, আমি ফাইল না দেখে কিছু বলতে পারছিনা।