জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন যশোরের জয়ের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপ্লব কুমার জয়ের বাবা জগদীশ কুমার দাস  ক্রিকেটের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। না হলে কি আর কোনও বাঙালি বাবা সন্তান জন্মের পরই তাকে ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা ছিলো যশোরের কেশবপুরে তার সাদামাটা জীবন। সেখানে নেই ক্রিকেটের কোনো অবকাঠামো। ২০০২ সালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার  বিদ্যান্দকাটি  বাউশালা গ্রামে জন্ম জয়ের। শৈশব কেটেছে নিজ গ্রামে। ক্রিকেটার হওয়ার  স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ২০১৬ সালে সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমিতে জয়কে ভর্তি করে দেন তার বাবা। সেখান থেকেই শুরু। দ্রুতই বয়সভিত্তিক দলের সিঁড়ি ভেঙে অনূর্ধ্ব-১৯ হাই পার্ফামেন্স বাংলাদেশ দলে জায়গা করে নেন তিনি। চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি জেমকন খুলনা দলের নেট বোলার হিসেবে রয়েছেন জয় । ডানহাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভালোই করতে পারেন জয়। দলের অন্য পেসারদের মধ্যে তার বোলিং অনেক ভালো। ঘন্টায় ১২০ কি.মি গতিতে বল করতে পারেন প্রতিভাবান এ ক্রিকেটার। বাংলাদেশের পেসবোলার মাশরাফি বিন মোর্তুজা ও ব্যাটসম্যান মোহাম্মদউল্লাহ জয়ের অনুকরনীয় ক্রিকেটার। তবে জয়ের  স্বপ্ন অলরাউন্ডার হওয়া। মনজুড়ে জাতীয় দলে খেলার তীব্র আকাঙ্খা ।

২০১৭ সালে সিলেটে আফগানিস্তান বয়সভিত্তিক দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ডাক পান বিপ্লব কুমার জয়। তবে ইনজুরির জন্য খেলা হয়নি ম্যাচটি। বিপ্লব কুমার জয় বলেন, আমারা  ঋষি সম্প্রদায়। বাবা বর্তমানে ঢাকায় জুতা সেলাইয়ের (জুতা মেকার) কাজ করেন। অতি কষ্টে সংসার চলে আমাদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ( বিসিবি) আন্ডারে অনূর্ধ্ব-১৯ হাই পারফামেন্স দলের ক্যাম্পে আছি। পাশাপাশি চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনা দলের নেট বোলার হিসেবে প্রত্যহ কাজ করছি। আমার স্বপ্ন একদিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা। জয়ের এ স্বপ্নের কথা দৈনিক স্পন্দনের সাথে আলাপচারিতায় বলছিলেন। যেটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

স্পন্দন: শুনেছি, আপনার বাবার স্বপ্ন ছিলো আপনাকে ক্রিকেটার বানানো?

জয় : হ্যা, ছোটবেলা থেকেই বাবার স্বপ্ন ছিলো আমাকে ক্রিকেটার বানাবেন। আমার বাবা ক্রিকেটের বড় ভক্ত ।

স্পন্দন: কীভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হলেন?

জয় : আমরা দুই ভাই এক বোন। বাবা জুতা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। মূলত বাবার অনুপ্রেরণা আমাকে ক্রিকেটার হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

স্পন্দন : যশোরে কখনও ক্রিকেট খেলেননি?

জয় : হ্যা। আমি খুলনা বিভাগীয় দলের হয়ে খেলেছি।

স্পন্দন : ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন নিশ্চয়ই?

জয় : হ্যা, এতো প্রতিকুলতার মধ্যে গেল বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই।

স্পন্দন : ক্রিকেটার কাকে অনুসরণ করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাই?

জয় : মাশরাফি বিন মোর্তুজার (ভাই) বোলিং  ও মোহম্মদউল্লাহর ব্যাটিং অনুসরণ করি আমি। তারাই আমার কাছে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা।

স্পন্দন: বাবার অনুপ্রেরণার কথা যদি বলেন?

জয় : বাবা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন,  সবসময় ইতিবাচক কথা বলে। ক্রিকেটের সব খোঁজখবর রাখেন তিনি । তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন জাতীয় দলে খেলবো আমি।

স্পন্দন : আপনি বোলিং, ব্যাটিংয়ের মধ্যে কোনটা উপভোগ করেন।

জয়: আমি বোলিংটা বেশি উপভোগ করি। তবে  একইসাথে ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আমি। মুলত আমার ইচ্ছা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তৈরি করা।

স্পন্দন : এ পর্যন্ত আসার পেছনে কার অবদান?

জয় : ঢাকাতে আসার পর মাশরাফি বিন মোর্তুজা (ভাই)  ও মোহম্মদউল্লাহ (ভাই)  আমাকে সাহায্য করেন তাদের সাধ্য মতো। তারা সহ সিনিয়র ভাইয়া আমকে যথেষ্ট সমিহ করেন। মাশরাফি বিন মোর্তুজা (ভাই)  ও মোহম্মদউল্লাহ (ভাই) সব সময় আমার খবর নেন ও পরামর্শ দেন। সর্বোপরি বাবা ঢাকাতে অতি কষ্ট করে  আমাকে  রেখেছেন একটি কারণেই  সেটি জাতীয় দলের জার্সিতে দেশের হয়ে আমার ক্রিকেট খেলা দেখবেন বলে।