যশোরে প্রথমদিন তিন রোগীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা, সকলেই নেগেটিভ

বিল্লাল হোসেন: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শুরু হলো বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। শনিবার সকালে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের (জুম মিটিং) মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক কার্যক্রম উদ্বোধন ঘোষণার পর যশোর হাসপাতালে এ পরীক্ষা প্রথম শুরু হয়। এরপর অন্য ৯ জেলাতও শুরু হয় পরীক্ষা কার্যক্রম। এ তথ্য নিশ্চিত করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, প্রথম দিন তার হাসপাতালে করোনা সন্দিগ্ধ তিনজন রোগীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়েছে। তাদের ফলাফল নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে রোগীদের ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক তাদের নানা দিক নির্দেশনা দেন। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা কার্যক্রম। ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দিগ্ধ  তিন জন রোগীর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোগীর স্বজন জানান, সামান্য সময়ের মধ্যে করোনার ফলাফল জানতে পেরে দুশ্চিন্তামুক্ত লাগছে। রোগীর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর থেকে পরিবারের সকলেই হতাশ ছিলাম। সরকারের উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তিনি খুশি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, প্রথম দিন তিনজনের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তাদের নমুনা ফের পরীক্ষার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযু্িক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, আজ খুব আনন্দ লাগছে। ১০ জেলার মধ্যে প্রথম অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়েছে যশোর হাসপাতালে। এটা আমাদের জন্য গর্ব। ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপম দাসের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত ৩ জনের একটি দল রোগীদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যক্রমে রয়েছেন । অন্য দুইজন হলেন হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব গোলাম মোস্তফা ও আইটি স্পেশালিস্ট মোজাম্মেল হোসেন।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে করোনায় সন্দিগ্ধ রোগীর ফলাফল ৩০ মিনিটের মধ্যে জানা সম্ভব। রোগী শনাক্ত হওয়ায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা যাবে। এতে করে ওই রোগীর সংস্পর্শ থেকে অন্যরা রেহাই পাবে। তিনি আরো জানান, যশোর ৫টি জেলার মধ্যবর্তী একটি জেলা। ওই ৫ জেলার মানুষ যশোরের ওপর দিয়ে  চলাচল করে। যশোরে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর, একটি বিমানবন্দর এবং রেলওয়ে স্টেশন। ফলে যশোর করোনার জন্য বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ করোনার একটি জেলা। যশোরেও এ পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের জন্যে বেশ সুবিধা হবে। প্রথম ধাপে যশোরে অ্যন্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, যশোর   ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, টেস্টটি সবার জন্য নয়। দায়িত্বরত চিকিৎসকের  নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের পরীক্ষা করা হবে। সরকারি খরচ হিসেবে প্রতি রোগীকে দিতে হবে ১শ’ টাকা।