ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

অভয়নগরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নির্মাণাধীন বসতঘর ভেঙে পড়েছে!

Published : Wednesday 10-March-2021 21:31:25 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৫:৫৭:০৩ am

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ‘বিশেষ এলাকার উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির গৃহহীনদের বসতঘর প্রদান প্রকল্পের বসতঘর ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার  সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামের ঋষিপাড়ার গোপাল দাসের ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোপাল দাসের নিজ জমিতে ভিত না করে মাটির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে বসতঘর। নি¤œমানের ইট দিয়ে গাঁথা হয়েছে দেয়াল। ধুলাবালির সাথে মেশানো হয়েছে নি¤œমানের সিমেন্ট। ঘরের মাঝের দেয়ালসহ বারান্দার সম্পূর্ণ অংশ ভেঙে পড়েছে।

এসময় উপস্থিত উপকারভোগী গোপাল দাস জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মিস্ত্রিরা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শুরু থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে রাজমিস্ত্রি নয়ন। টাকা দিতে না চাইলে ইউএনওকে বলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয় ফশফন। এমনকি লাল তালিকায় তৈরি করে নাম বাদ দেয়ার ভয় দেখানো হয়। ভয় ও আতঙ্কে নয়ন মিস্ত্রিকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা নগদ দিতে হয়েছে। ইটের খোয়া, সিমেন্ট ও রড কিনতে দিতে হয়েছে আরো ১০ হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, এই টাকা দিতে বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। চোখের সামনে নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে পড়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে কিভাবে বসবাস করব এমন প্রশ্ন করেন তিনি? এসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও রাজমিস্ত্রি নয়নের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

উপস্থিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদায় ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান ও তার সহযোগি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মো. রুবেলের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বসতঘর ভেঙে পড়ছে। এই দুই কর্মকর্তা উপজেলায় থাকাকালিন অভয়নগরব্যাপী দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে চলিশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদির মোল্যা মুঠোফোনে জানান, এসব কাজে অনিয়ন-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। নবাগত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিজিবুল ইসলাম জানান, যেসব বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেসব ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় নির্মাণ করা হবে।

নবাগত ইউএনও মো. আমিনুর রহমান জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ১১টি ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো পুননির্মাণ করা হবে।