ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ৩০ জুলাই , ২০২১ ● ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

উপজেলায় উপজেলায় ঘরপ্রদান উৎসব

Published : Sunday 20-June-2021 22:17:41 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ৩০ জুলাই , ২০২১ ০০:৩৩:০৬ am

স্পন্দন ডেস্ক : মুজিববের্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর (দ্বিতীয় দফায়)৫৩ হাজার ৩৪০ ঘর প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে উপজেলায় উপজেলায় ছিল উৎসবের পরিবেশ। কল্পনাকে হার মানায় এমন পাওয়ার সাথে যুক্ত হয়েছিল সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সুযোগ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের রিপোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক মিরাজুল কবির টিটো জানান,  সহায় সম্বলহীন এমদাদুল। তার থাকার কোনো জায়গা নেই। পুরাতন কসবার মুক্তিযোদ্ধা অফিসের  সামনে ফুটপাতে চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর রাতে ফুটপাতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পাওয়ায় তার বসবাস করার ঠিকানা পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখুক। পুর্ণিমা দাস (৪০) নামে এক মহিলা জানান, তার চার সদস্যের সংসার। স্বামী তাপস শ্রমিক। আরবপুরে ভাড়া থাকেন। লকডাউনে তেমন কাজ থাকায় সমস্যার মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পাওয়ায় মাথা গোজার স্থায়ী ঠিকানা হল আমাদের। এখন থেকে ঘর ভাড়া দেয়া দুশ্চিন্তা থাকলো না। না খেয়ে থাকলেও বাস করবো নিজের ঘরে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দোয়া করেন। একই রকমভাবে ঘর পেয়ে খুশিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন আনোয়ারা বেগম ও আলেয়া বেগম নামে আরো দুইজন মহিলা। রোববার যশোরেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হত দরিদ্র পরিবারের নিকট ভূমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুমিহীন ও গৃহহীনের মাঝে ভূমি বন্দোবস্ত, কবুলিয়ত দলিল রেজিষ্ট্রিকরণ এবং নামজারি কাগজ, ঘরের চাবি হস্তান্তর করে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎন্সা আরা মিলি, সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাকির হোসেন প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য বরান্ধকৃত ঘর প্রদানের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন শেষে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ১২টি ভূমিহীন গৃুহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহের দলিল প্রদান করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুল আজম খান চঞ্চল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামিদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজা, হাসিনা খাতুন হেনা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেরুন নেছা, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবীর,পান্তাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন,এসবিকে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফান হাসান চৌধুরী নুথান,ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম,মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন আর রশিদ, নাটিমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার, জেলা পরিষদ সদস্য এম এ আসাদ প্রমুখ। 

কয়রা  প্রতিনিধি জানান, কয়রায় ১৩০টি হতদরিদ্র পরিবারকে আধাপাকা স্বপ্নের বাড়ি প্রদান করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এসব ঘর প্রদান করা হয়েছে। জমিসহ ঘর প্রদানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঘর পাওয়া কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নে ২ নম্বর কয়রা গ্রামের সূর্য সেন বলেন, “কপোতাক্ষের নদ ভাঙনের লোক আমরা। ভাঙনে ভিটামাটিসহ আমার সবকিছুই নদীগর্ভে চলে গেছে। আমাদের থাকার ঘরবাড়ি নেই। বর্তমান সরকার আমাদের ঘর দেয়ায় আমরা খুবই খুশি।

কয়রায় জমির দলিল হস্তান্তরের সময় কয়রা উপজেলা পরিষদের হল রুমে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এস এম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমা ার অ্যাড: কেরামত আলী, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাইন বিল্লাহ, উপজেলা প্রকল্পবাস্তয়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত ও উপকাভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মণিরামপুর  প্রতিনিধি জানান,  যশোরের মণিরামপুরে ২৯২টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেতে শুরু করেছে জমিসহ ঘর। এ উপলক্ষে রোববার সকালে উপজেলা পরিষদের হলরুমে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি ঘরের মধ্যে ২৬টি ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিত ও ঘর পাওয়া সুবিধাভোগীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান,  রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী গৃহ প্রদান কার্ষক্রমের উদ্বোধনের পর কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহহীন পরিবারদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধান অতিথি এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। এবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গৃহহীনদের জন্য ২য় পর্ষায়ের বরাদ্দকৃত ৫ টি ও ১ম দফার ১৫ টিসহ মোট ২০ টি ঘর প্রদান করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্ণা রানী সাহার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ, কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাঃ মাহফুজুর রহমান মিয়া ও উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী।

শালিখা প্রতিনিধি জানান,   মুজিববর্ষ উপলক্ষে শালিখায় ৮০ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভূমিহীনদের মাঝে ঘর ও জমির কাগজপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোঃ বাতেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আফাজ উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. কামাল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম ও জেসমিন আক্তার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রাজীবুল ইসলাম, প্রকল্পের ঠিকাদার ইউপি সদস্য সাহেদ হাসান লিটন, শালিখা প্রেসক্লাবের স¤পাদক মন্ডলীর সদস্য হাবিবুল হক, সোহাগ হাসান, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ।  

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি জানান,   ডুমুরিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৫শ গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডুমুরিয়া অফিসার্স ক্লাবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘরের দলীয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ। এসময় মোবাইল টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

জানাযায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫শ ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধামালিয়ায় ৪০টি, কাঁঠালতলায় ৫০টি, ভান্ডারপাড়ায় ৮০টি, শেয়ারঘাটায় ৬০টি, বাহাদুরপুর ১৯৫টি ও বাদুরগাছায় ৭৫টি। বিনা মুল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা স্বপ্নের নীড় পেয়ে খুব খুশি গৃহহীনরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মারুফুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মনিরুজ্জামান, থানা অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন, আ’লীগ নেতা শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, ইউপি চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা, ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্য, ইউপি চেয়ারম্যান ডা. হিমাংশু বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ জোদ্দার প্রমুখ।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান,  মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলায় ৪৩৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘরের চাবি হস্তান্তর  করে স্থানীয় প্রশাসন। প্রধাণমন্ত্রীর পক্ষে বাগেরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম উপজেলার ৮৮ জনকে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। রোববার সকালে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ৮৮ জনের মধ্যে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। এ জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলার বাকী ৮ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মাঝে জমির দলিল হস্তান্তরর করা হয়। একই সাথে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কচুয়ায় ১৭, রামপাল ৪০, মোংলা ৫০, মোল্লাহাট ৬০, চিতলমারী ৫০, ফকিরহাট ১০০, মোরেলগঞ্জ ২৫ ও শরণখোলা উপজেলায় ৪ জন উপকারভোগীর মাঝে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

কচুয়া প্রতিনিধি জানান,   রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জীনাত মহল ১৭ হতদরিদ্রের মধ্যে ঘরের চাবি ও কবুলিয়ত দলিল তুলে দেন। এর আগে সকলে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে এসব ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নাজমা সরোয়ার, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মনিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অঞ্জন কুন্ডু, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শিকদার হাবিবুর রহমান, নিমাই দাস, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণমাধ্যম কর্মীরা এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন।

দেবহাটা প্রতিনিধি জানান,   মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দেবহাটায় ১৮ টি জমি ও গৃহহীন পরিবারদের মধ্যে গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। সকাল ১০ টায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহপ্রদান কার্যক্রমের ২য় পর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ আফম রুহুল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল বশারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীর কুমার গাইন, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম নওয়াপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলায় মোট জমি ও গৃহহীন ১৮টি পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

কেশবপুর (পৌর) প্রতিনিধি জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে কেশবপুরে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উদ্ধোধন করা হয়েছে। ঘরের চাবি ও জমির দলিল হসান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)ইরুফা সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রহুল আমিন, কেশবপুর থানার অফিসার্স ইনচাজ বোরহান উদ্দীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ মল্লিক,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিযিবুল ইসলাম প্রমুখ।

আশাশুনি প্রতিনিধি জানান,  মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশাশুনির ২৬২ টি হতদরিদ্র পরিবাররর মধ্যে জমি ও গৃহ হস্তান্তর শুরু হয়েছে। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একইসাথে আশাশুনিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহীন সুলতানার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়। উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৬৬ টি, শোভনালীতে ৫২ টি, বুধহাটায় ৩৩ টি, কুল্যায় ৩৯ টি,বড়দলে ১৫ টি, শ্রীউলায় ৯ টি, প্রতাপনগরে ৩৬ টি, দরগাহপুরে ৬ টি ও কাদাকাটি ইউনিয়নে ৪ টিসহ মোট ২৬০ টির মধ্য ৬২ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে সনদপত্র ও দলিল তুলে দেয়ার মাধ্যমে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ১৯৮ টি গৃহের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুত সুবিধাভোগী এ সকল পরিবারের মাঝে জমির দলিলসহ গৃহ হস্তান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৬৬,১৮৯টি পরিবারকে গৃহ প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ খানের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরন চক্রবর্তী, মোসলেমা খাতুন মিলি, উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান, মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মোনায়েম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাচ্চু, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান, সভাপতি আল ফারুক,সাধারণ সম্পাদক সমীর রায়,  রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম আলাউদ্দীন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অরুণ কুমার পাল, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান,  মুজিববর্ষ উপলক্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে মাগুরায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর পেলেন ১৯৫ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মাগুরাসহ দেশের সকল জেলায় একযোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর মাগুরা জেলার ৪ উপজেলায় উপকারভোগীদের মাঝে ঘরের জমির দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়। ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মাগুরা সদর উপজেলা মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান, পৌর মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন কবীরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও জন প্রতিনিধি। মহম্মদপুর উপজেলা মিলনায়তন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার, মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লা হেল কাফি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল প্রমুখ। মাগুরায় ১৯৫ টি ঘরের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫টি, শ্রীপুরে ৪০টি, শালিখায় ৮০টি এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ৪০টি ঘর পেয়েছেন উপকারভোগীরা। প্রতিটি পরিবারের নামে ২ শতক খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে এ সকল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ব্যয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে মাগুরা জেলার চার উপজেলায় ১১৫ টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়।

ফুলতলা প্রতিনিধি জানান,   মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান উপলক্ষে  রোববার বেলা ১১টায় ফুলতলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. শাহানাজ পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আকরাম হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুলী বিশ^াস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন, ওসি মাহাতাব উদ্দিন। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিনের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃ মিঠুন বাহাদুর, ভিএস ডাঃ তরিকুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহীন আলম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পারভেজ মোল্যা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. আবুল কালেম, আওয়ামী লীগ নেতা মৃনাল হাজরা, ইউআরসি ইন্সটেক্টর রবিউল ইসলাম, আইসিটি কর্মকর্তা পুষ্পেন্দু দাশ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেলিনা খাতুন, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ^াস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলতলার মুক্তেশ^রী এলাকায় ২শতক করে জমিসহ নব নির্মিত ৬টি ঘরের জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঘরের চাবি বুঝে দেয়া হয়। জমিসহ ঘর প্রাপ্তরা হলেন আঃ রশিদ গাজী ও রশিদা বেগম, কাজী আঃ সামাদ ও আম্বিয়া খাতুন, নার্গিস নাহার খাতুন, সেলিনা বেগম, ছগির হাওলাদার ও ভানু বেগম, শামসুল হক সানা ও গহরজান বেগম। 

মহম্মদপুর প্রতিনিধি জানান,   মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৪০ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দুই শতক জমি ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড.শ্রী বীরেন শিকদার।  উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হরেকৃষ্ণ অধিকারী সুমন, থানার অফিসার ইনচার্জ তারক বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) মোছা. বেবী নাজনীন, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেস্তফাা কামাল সিদ্দিকী লিটনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সুধী সমাজের প্রতিনিধি,  সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।