ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

কপিলমুনিতে পানি সরানোর একমাত্র মাঠখালী খাল দখলের অভিযোগ

Published : Thursday 11-March-2021 22:03:29 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৬:৪১:১৪ am

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি : উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নে ৬টি গ্রাম ও একাধিক মৌজার পানি সরবরাহের একমাত্র মাঠখালী খালটির অবস্থা খুবই করুন। বর্তমান খালটি দখল করে নতুন রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৯০ ফুট চওড়ার এই খালটিকে শাসন করে এখন মাত্র প্রায় ১৫ ফুট চওড়া রাখা হয়েছে। ফলে সেচ কাজে চরম ব্যাঘাতসহ বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। খালটিকে বাঁচিয়ে রাখতে জরুরি পদক্ষেপ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাঠখালী থেকে কামারাবাদ ওয়াপদা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খালটির মাত্র ১৫ ফুট রেখে ১০ ফুট চওড়া নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ রাস্তা নির্মাণের ফলে এ খালটিকে ছোট করা হয়েছে। যদিও পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হলেও তা সংস্কার না করে বরং খালের বুকচিরে নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী।

কাজিমুছা গ্রামের আজিজুল গাজী জানান, খালের পাড় বরাবর বহু সংখ্যক প্রভাবশালী জমি মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মালথ গ্রামের আজিজুল গাজী জানান, খালটি সংকীর্ণ করে রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের সিংহভাগ প্রায় শতাধিক বিঘা সরকারি মূল্যবান খাস জায়গাগুলো স্ব স্ব জমি মালিকদের দখলে চলে গেছে। বিনিময় তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার টাকা। কাজিমুছা গ্রামের সিরাজুল জানান, খালটি এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। শুধু পানি নিষ্কাশন নয়, এলাকার হতদরিদ্র মানুষ এই খালের মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। একই গ্রামের খায়রুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থ বিরোধী এ কাজে প্রতিবাদ করলে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল হামলা ও মামলার ভয় দেখান। ফলে এলাকাবাসী এ কাজে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

জানাযায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়। ২০১৯ সালে প্রথম প্রকল্পটি ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন গাজী পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ওয়াপদা থেকে মাঠখালী বিল পর্যন্ত ১২ চেইন নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করেন। ২০২০ সালে বাকি প্রায় ২ কিলোমিটারের বেশি পুরাতন রাস্তাটি সংস্কারে প্রকল্প সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল। খালটিকে সরু করে পুরাতন রাস্তা বাদ দিয়ে নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন গাজী জানান, আমার প্রকল্পে যতটুকু রাস্তা নির্মাণ করেছি তা টেকসই ও খালদিয়ে পানি নিষ্কাশনে কোন অন্তরায় হবে না। তিনি আরও জানান, পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি পার্শ্ববর্তী জমি মালিকরা কেটে দখলে নেয়ার ফলে রাস্তার অস্তিত্ব ছিল না বিধায় খালের মধ্যদিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হয়েছে। 

ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল জানান, খালের মধ্যে কোনো রাস্তা করা হয়নি এবং খাস জমি দখলদারদের কাছ থেকে কোন আর্থিক সুবিধা নেয়া হয়নি। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে তিনি বলেন, খালটি খননের জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী জানান, খালটির সাথে আমাদের বাঁচা মরার সম্পর্ক। তাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর গণ দরখাস্ত দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করবেন তারা