ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

কপিলমুনিতে সুদখোরের হাত থেকে রক্ষা পেতে অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন

Published : Wednesday 24-February-2021 21:24:22 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৬:০৫:১১ am

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি : কপিলমুনিতে সুদের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ ও জীবন নাশের হুমকিতে ভীত সন্ত্রন্ত হয়ে এক নারী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার সকালে কপিলমুনিতে সংবাদ সম্মেলনে শ্রীরামপুর গ্রামের মীর আকরাম আলীর স্ত্রী মমতাজ বেগম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী আকরাম হোসেন কপিলমুনি বাজারের একজন চাল ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসায়ীক কারণে প্রায় আড়াই বছর পূর্বে প্রতিবেশী মৃত. মোকন হাজরার ছেলে সেলিম হাজরার কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চাইলে শর্ত সাপেক্ষে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। শর্তানুযায়ী এই টাকার বিনিময়ে দেড় লক্ষ টাকার একটি তারিখ বিহীন একটি চেক এবং প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা হারে সুদ দিতে থাকে। প্রায় ১ বছরের অধিক নিয়মিত সুদ দেয়া হয়। কিন্তু তার ব্যবসায় অব্যাহত লোকসান ও করোনাকালীন লক ডাউনের কারণে ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েন। এরপর বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের টাকার জন্য মামলার উপক্রম হলে শেষ সম্বল বসত বাড়িটি বিক্রি করে এসব প্রতিষ্ঠানের টাকা পরিশোধ করেন স্বামী আকরাম। বর্তমানে বাস্তহারা হয়ে ৩ সস্তান নিয়ে শ্রীরামপুর গ্রামে আমার দিনমজুর পিতার গোয়াল ঘরে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন যাপন করছি।

এদিকে কয়েক মাস সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমুদয় সুদের টাকার জন্য আমার স্বামীকে ভয় ও চাপ দিয়ে দ্বিতীয় দফায় ৫০ হাজার টাকার আরোও একটি চেক নিয়েছেন সেলিম। চেক গ্রহণের দু-একদিন পরেই সুদসহ সব টাকার চাপ দিতে থাকে সে। আগামি মার্চ মাসে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য অনুনয় বিনয় করি। কিন্তু হঠাৎ  গত ২১ ফেব্র“য়ারি ফজরের আজানের পর পরই আমার পিতার বাড়িতে ঢুকে গালি গালাজসহ ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। এ সময় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে একটু দেরি হওয়ায় সেলিম দরজায় লাথি মেরে টিনের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে আমি, আমার বৃদ্ধ পিতা ও ভাই তাকে রক্ষা করি। ওই সময় সেলিম হাজরা বলেন, আমি বর্তমান এমপির ডান হাত এবং হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা। সুদসহ সমুদয় টাকা না দিলে আমার স্বামীকে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এই ঘটনার পর জীবনের নিরাপত্তার জন্য পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, সেলিম একজন ভয়ংকর ব্যক্তি ও মাদকসেসী। তার বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় হাফডজন জিডি ও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৪ সালে পুঠিমারি একটি মৎস্য ঘেরের দখলের ঘটনায় দুটি বন্দুকসহ পুলিশ তাকে আটক করে। ওই সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যুবদলের নেতা হিসাবে প্রভাব খাটিয়ে সে ছাড়া পায়। এছাড়াও বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে তার নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এহেন ব্যক্তির হাত থেকে স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মমতাজ বেগম।