ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ১২ আশ্বিন ১৪২৮

করোনা : দেশে ৬ দিনে মৃত্যু এক হাজার ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৯৫, শনাক্ত ৬৭৮০

Published : Saturday 24-July-2021 22:26:04 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ০৫:০৩:৫৬ am

স্পন্দন ডেস্ক : দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ছয় দিনে মৃত্যু ঘটেছে এক হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগীর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৯৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। তাদের নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১৯ হাজার ৪৬।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৭৮০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৪।

সরকারি হিসেবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ৯ হাজার ৭৮২৩ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৯ জন।

নতুন করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কিছু দিন ধরেই দিনে দুইশ’র মতো মৃত্যুর খবর আসছে। ঈদের ছুটির মধ্যে নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ায় রোগী শনাক্ত কমলেও মৃত্যু আগের মতোই রয়েছে।

এক দিনে রেকর্ড ২৩১ জনের মৃত্যু ঘটেছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিনই মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছিল। তার ছয় দিনে মৃতের তালিকায় আরও ১ হাজার যোগ হল।

দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বছরের ১০ জুন তা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর তা ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ অগাস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায়।

এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, গত ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে আরও কম, মাত্র ১০ দিন সময় নেয় করোনাভাইরাস; মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল।

তার ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এক মাসের মাথায় ১১ জুন তা পৌঁছায় ১৩ হাজারে।

আরও ১৫ দিন পর ২৬ জন মৃতের মোট সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়ায়। আট দিনে আরও এক হাজার মানুষের মৃত্যুতে ৪ জুলাই সেই সংখ্যা ১৫ হাজারে যায়।

এরপর প্রতি পাঁচ দিনে এক হাজার করে মানুষের মৃত্যু ঘটায় করোনাভাইরাস। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ জুলাই ১৬ হাজার, ১৪ জুলাই ১৭ হাজারে, ১৯ জুলাই ১৮ হাজারে পৌঁছায়।

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ১৯ কোটির বেশি রোগী।

দেশে কোরবানির ঈদের ছুটিতে নমুনা পরীক্ষা এক-চতুর্থাংশে নেমে আসায় বৃহস্পতিবার শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা এক ধাক্কায় নেমে এসেছিল এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

ঈদের ছুটির আগে যেখানে দিনে ৪০ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা হত তা কমে ২০ হাজারে এসে ঠেকেছিল। এখন নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

শুক্রবার ২০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৩৬৪ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

শনিবার ২০ হাজার ৮২৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৭৮০টিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা ২৯ শতাংশ কমেছে, এর পাশাপাশি রোগী শনাক্তের হারও কমেছে ২৬ শতাংশ। মৃত্যুর সংখ্যা ৭ শতাংশ কমেছে।

গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা জেলায় ৩ হাজার ৭৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩০১, সিলেটে ২২৭, নারায়ণগঞ্জে ১৫৫, ফরিদপুরে ১২০, কিশোরগঞ্জে ১১৬, শরীয়তপুরে ১২৩, ফেনীতে ১৬৪, কুমিল্লায় ২০৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩৭, চাঁদপুরে ১১৮, বগুড়ায় ১৪৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৪, খুলনায় ৯৫, রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৯০, বরিশালে ৭৬, রংপুরে ৩৭ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকা জেলায় ৩৭ জনের। জেলাগুলোর মধ্যে এরপরেই রয়েছে কুষ্টিয়া (১৯), কুমিল্লা (১৫), নারায়ণগঞ্জ (৯), বগুড়া (৬)।

গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছে ঢাকা বিভাগে ৬৮ জন। এরপরে সর্বাধিক মৃত্যু ঘটেছে খুলনা বিভাগে ৪১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু ঘটেছে ৩৬ জনের।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন ও সিলেট বিভাগে ১ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

মৃত ১৯৫ জনের মধ্যে ৪৭ জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের কোঠায়; ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৪৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৩৪ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩১ জন মারা গেছে।

মৃতদের মধ্যে ১০৩ জন ছিলেন পুরুষ, ৯২ জন ছিলেন নারী। ১৫৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ৩১ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৫ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।