ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

চৌগাছায় ধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে কৃষকের আত্মহত্যা

Published : Tuesday 02-March-2021 22:07:46 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৪:৩৩:৪৪ am

চৌগাছা প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় ধর্ষণের অপবাদ লজ্জা সইতে না সইতে না পেরে বিষপান করে মিজানুর রহমান (৫৫) নামের এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মিজানুর রহমান উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামের এক গৃহবধূ তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে মঙ্গলাবার সকালে তিনি বিষপান করেন। এসম তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মিজানুর রহমানের প্রতিবেশীরা জানান, মিজানুর রহমানের পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নবনির্মিত বাড়িতে কাজ করছিলেন তিনি। কাজের ফাঁকে গ্রামের এক গৃহবধূ মিজানুর যে ঘরে কাজ করছিল সেই ঘরের মধ্যে গল্প করছিল। এঘটনা মিজানুরের স্ত্রী জানতে পেরে তার দেবরের স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ওই গৃহবধূসহ ঘরের দরজা আটকে দেয়। ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎ উভয় পরিবারকে বুঝিয়ে গৃহবধূকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে গৃহবধূর স্বামী খবর জানতে পেরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। গৃহবধূ ওইদিন তার বাবার বাড়িতে আশ্রায় নিয়ে পরের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। চৌগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা নম্বর ৪০।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সমিতির কিস্তির জন্য টাকার জন্য মিজানুরের কাছে যান ধার চাইতে। টাকা দেয়ার কথা বলে মিজানুর তার বাড়িতে ডেকে ধর্ষণ করে। এসময় চিৎকার করলে মিজানুরের স্ত্রী ও ভাতিজা এগিয়ে এসে ঘরের দরজা খুলে মিজানুরকে পালাতে সাহায্য করে এবং চোর অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করে।

মীমাংসার কথা অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, কয়েকদিন আগে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণ হয়েছে কিনা বলতে পারব না। তবে এ ঘটনার জের ধরেই মিজানুর আত্মহত্যা করেছেন।

ইউপি সদস্য বাবুল মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সম্ভবত ধর্ষণ অভিযোগে মামলার লজ্জা সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আসামির মৃত্যু ঘটনা মৌখিকভাবে শুনেছি। ধর্ষণ অভিযোগে মামলা রেকর্ড হওয়ার পরে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট পাওয়া গেলে বোঝা যাবে ধর্ষণ হয়েছে কিনা।