ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

চৌগাছায় সোনালী ধানের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

Published : Monday 19-April-2021 20:55:47 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৪:৪১:৩২ am

বাবুল আক্তার, চৌগাছা : ধানের শীষগুলো পরিপক্ক রূপ নিয়েছে। কিন্তু পুরো ধানে এখনও পাক ধরেনি। কেউ কেউ এখনও সেচ দিচ্ছেন। যারা আগাম জাতের ধান চাষ করেছিল তাদের কেউ কেউ ধান কাটতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে চৌগাছার মাঠে   মাঠে মৌ মৌ ঘ্রাণে সোনালী ধানের  শীষে দুলছে   কৃষকের   স্বপ্ন।   পুরোদমে   ধানের   গোড়ায়   কাস্তে   চালাতে বড়জোর   সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। সোনালী শীষে কৃষকের দোদ্যুল্যমান স্বপ্ন   বাস্তাবায়নে   বৈরী   আবহাওয়া ও করোনা প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৩০হেক্টর জমিতে। অর্জন হয়েছে ১৮ হাজার ৩’শ হেক্টর। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৯ হাজার মেট্রিকটন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা করোনা  পরিস্থিতিতেও  মাঠে  কাজ করছেন  কৃষক। করোনা   আতঙ্কে থেমে গেলে কৃষকের চলবে না। বাতাসে দোল খাওয়া স্বপ্ন ধওে রাখতে মাঠে যেতেই হচ্ছে তাদের।

কথা হয় উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক আবু সালামের সাথে। তিনি বলেন, ‘এ বছরে ৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ধান পাকতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু  হবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তিনি। তবে বৈরি আবহাওয়ার করোনা প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক সংকটে আশঙ্কার কথা জানালেন তিনি’।

উপজেলার   পুড়াপাড়া গ্রামের  মিলন, রাকৃষ্ণপুর গ্রামের আবু সিদ্দিক ও আব্দুল হামিদসহ কয়েকজন চাষী জানান, ‘এবছর ধানের জমিতে অন্য বছরের তুলনায় বেশি সেচ দিতে হয়েছে। এবছর পোকামাকড়ের  উপদ্রব   তেমন  ছিল না।  কিন্তু   হঠাৎই গরম ঝড়ো বাতাসের কারনে চিটার পরিমান একটু বেশি হবে।  তার পরেও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুব একটা সমস্য হবে না বলে মনে করছেন এসব চাষিরা।

গরম ঝড়ো বাতাসের কারণে  উপজেলায় ফলন কম হবে না এমনটি মনে করছে কৃষি অফিস। উপসহকারী কৃষি অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কোনো  কোনো এলাকায় ধানের পরাগায়নের সময় গরম বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গড় উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না।

উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মককর্তা চাঁদআলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কাটা নিয়ে প্রতি বছর কৃষক-শ্রমিকের বিপুল প্রস্তুতি থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। এবার ধান কাটার প্রতি কৃষক-শ্রমিক যতটা না মনোযোগী হবেন তার চেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায়।  সাধারণত  কৃষক-শ্রমিকরা  ধান কাটার  সময় একসাথে থাকা   খাওয়া, একে অন্যের জিনিস ব্যবহার ও কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এবার সেভাবে চললে বিপদ হতে পারে। তাই নিজ নিজ উপকরণ ব্যবহার ও কৃষকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, এবছর কৃষক-শ্রমিকের জন্য ক্ষেত থেকে শুরু করে সব জায়গায়, সব সময় হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক মাস্ক ও গামছা থাকতে হবে। কৃষিসরঞ্জাম ও উপকরণগুলো ব্যবহারের আগে-পরে ভালোভাবে ধুয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তা না হলে কৃষকের মুখে সুখের হাসি বিষাদে পরিণত হতে পারে ।