ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুন্দরবনে খনন করা হচ্ছে ৮৮ পুকুর

Published : Monday 08-March-2021 21:10:47 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৫:৩২:১৮ am

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা : বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর মিষ্টি পানির চাহিদা মেটাতে সুন্দরবনে খনন ও পুনঃখনন করা হচ্ছে ৮৮টি পুকুর। একইসাথে ৩০টি পুকুরে পাকা ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ও খালের লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতি প্রভাব পড়েছে বন্যপ্রাণি ও কম লবণ সহিষ্ণু গাছের উপর। বিশ্বের একক বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বন সন্দুরবন। জীববৈচিত্রে ভরা এ বন তাই ক্ষতি পরিমাণ কমিয়ে জীব বৈচিত্র রক্ষায় বনের ভিতর এসব পুকুর বন্যপ্রাণীসহ সুন্দরবনে থাকা বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বনের ভেতরে যাওয়া বনজীবী ও পর্যটকদেরও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাবে।

জলবায়ূ ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এসব পুকুর খনন ও পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে চার কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকায় এসব পুকুর খননের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে। এসব পুকুরের মধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলায় দুটি ও বগীতে নতুন করে তিনটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। এই রেঞ্জের ২৪টি পুকুর পুনঃখননের মধ্যে কচিখালী অভয়ারণ্যে চারটি, কটকা অভয়ারণ্যে চারটি, দুবলায় এলাকায় তিনটি, শরণখোলা রেঞ্জ সদরে দুটি, দাশের ভারানীতে দুটি।

এছাড়া একটি করে পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে ডুমুরিয়া, চরখালী, তেরাবেকা, চান্দেশ্বর, শাপলা, ভোলা, শেলারচর, কোকিলমুনি ও সুপতি। চাঁদপাই রেঞ্জে পুনঃখনন করা ২৬টি পুকুরের মধ্যে রয়েছে ধানসাগরে তিনটি, গুলিশাখালীতে দুটি, আমুরবুনিয়ায় দুটি। একটি করে পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে চাঁদপাই, ঢাংমারী, লাউডোপ, জোংড়া, ঘাগড়ামারী, নাংলী, হরিণটানা, কলমতেজী, তাম্বুলবুনিয়া, জিউধরা, বরইতলা, কাটাখালী, শুয়ারমারা, মরাপশুর, বৈদ্যমারী, আন্ধারমানিক, হারবাড়িয়া, নন্দবালা ও চরাপুটিয়ায়। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার তালুকদার শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনে খনন ও পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় খুলনা অঞ্চলেন বন সংরক্ষক (সিএফ) মইন উদ্দিন খান ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপমন্ত্রী জানান, ২৪ ঘণ্টায় দুই বার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় এই বনভূমি। এছাড়া সুন্দরবনের মধ্যে থাকা পুকুরগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণী সুপেয় পানি সংকটে ছিল। এজন্য সুন্দরবনে ৮৮টি পুকুর খনন ও পুনঃখনন করা হচ্ছে। ৩০টি পুকুরের পাকা ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। যা বন বিভাগ সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণির দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাবে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির ৫১ ভাগ। এই ম্যানগ্রোভ বনভূমি দিনে দুই বার সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া লবণাক্ত স্থলভাগের পরিমাণ চার হাজার ১৪২ দশমিক ছয় বর্গকিলোমিটার। সংরক্ষিত এই বনের তিনটি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট ঘোষণা করে, যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩০ ভাগ এলাকা। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি রয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলাযেত হোসেন জানান, বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকায় এসব পুকুর খনন ও পুনখননের কাজ আগামি জুনের মধ্যে শেষ হবে।