ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ● ১২ আশ্বিন ১৪২৮

ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষের ওপর নতুন ব্রিজ নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএ’র গেজেট মানেনি সওজ

Published : Thursday 29-July-2021 21:59:33 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২১ ০৫:০৬:৫৯ am

আবদুল কাদের: যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ে হিসেবে প্রস্তাবিত। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল যেতে হলে ঝিকরগাছা কপোতাক্ষ নদের উপর ৬০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে হয়। যেকারণে ব্রিজটি ভেঙে নদের উপর নতুন দুটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে এই ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা শিগগিরই শুরু হবে।

ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত নতুন ব্রিজ দুইটি ভুল নকশায় করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এখনই সামান্য বৃষ্টিতে ব্রিজের গার্ডারের নিচের অংশ পানি ছুঁতে চলেছে। ফলে ভরা মৌসুমে এই ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনো নৌকা চলাচল করতে পারবে না। মূলত ব্রিজটি নদের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্মপরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন সেতুটি নির্মাণে আমাদের গেজেট মানা হয়নি। যেকারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। এটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। এ সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর ৬০ বছর আগে নির্মিত সরু ব্রিজটি ছিলো এ পথের বিড়ম্বনা। যেকারণে দেড় বছর আগে এ ব্রিজটির পাশে শুরু হয় ৬ লেনের রাস্তার জন্য দুইটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। তার মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন দুইটি ব্রিজের মধ্যে একটির কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরি এর পাশে শুরু হবে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। প্রতিটি ব্রিজ ১২০ মিটার লম্বা ও ১৫ মিটার চওড়া। দুইটি করে পায়ার বা পিলার ও এবাটমেন্ট ওয়াল এবং ২১ গার্ডার বা ভিম দেয়া হয়েছে। পুরাতন ব্রিজটির চেয়ে দেড় মিটার উঁচু করা হয়েছে। ব্রিজটি পিসট্রেজ বা সমান করা আছে। কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো এবং ডেনকো নামক প্রতিষ্ঠান। কিস্তু সম্প্রতি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ব্রিজটি দেখে এলাকাবাসী হতাশ হয়েছেন। পুরাতন ব্রিজের নিচ অংশ বা তলোদেশ কখনো নদের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ, বৃষ্টিতে নদে পানি সামান্য বাড়ায় নির্মাণাধীন অর্থাৎ নতুন ব্রিজের নিচের অংশ বা তলোদেশকে পানি ছুঁতে চলেছে। ফলে, এলাকাবাসীর আশংকা ভরা মৌসুমে নতুন এ ব্রিজের নিচ দিয়ে কপোতাক্ষ নদে কোনো নৌকা তো দূরের কথা একটি ডোঙাও চলাচল করতে পারবে না।

ঝিকরগাছা উপজেলার মুদ্রণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, নতুন ব্রিজ অনেক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্রিজের কারণে কপোতাক্ষ নদ আরো মরে গেলো। ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান রশীদ জানান, নতুন ব্রিজ আমাদের আশাহত করেছে। এ ব্রিজের কারণে নদ তার নাব্যতা আরো হারাবে। ব্রিজের নকশা ঠিক হয়নি।

ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দীন জানান, আমরা শুনেছিলাম যে ব্রিজের কথা তা তো নির্মাণ হলো না। পুরাতনটির নিচ দিয়ে নৌকা, জাহাজ চলাচল করতে পারলেও নতুন ব্রিজটির নিচ দিয়ে একটি ডোঙাও যেতে পারবে না। নদকে মেরে ফেলতে নতুন ব্রিজই যথেষ্ট বলে তিনি দাবি করেন তিনি।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, নদীর উপর ব্রিজ করতে হলে অবশ্যই বিএডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু ভুল নকশায় সওজ ব্রিজ দুটি নির্মাণ করছে। ব্রিজের নিচে দিয়ে কেনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। সরকারের যে নদী খননকাজ করছে ব্রিজটি তার গলার কাঁটা হিসেবে দাঁড়াবে।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আমরা খতিয়ে দেখছি ভুল নকশায় ব্রিজটি করা হয়েছে কিনা। কেননা শিগগিরই আমাদের কপোতাক্ষ খনন কাজ শুরু করা হবে। ৮শ’ কোটি টাকার এই কাজের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৪ কিলোমিটারের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ভুলভাবে ব্রিজটি করা হলে সবার জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রিজ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান জানান, বিশেজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিজ দুটির নকশা করা হয়েছে। পুরাতন ব্রিজের মাপে এটি করা হচ্ছে। নদীর পানি যদি গার্ডারে লেগে যায় তাহলে নদী খনন করতে হবে। তা না হলে নিচ দিয়ে নৌযান চলতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন।  সেতুটি নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদন নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। নির্মাণাধীন সেতুটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো গেজেটও মানা হয়নি। এক পর্যায় তিনি নদের পানি থেকে সেতুর উচ্চতা মেপে দেখেন। যেখানে সর্বনিম্ন উচ্চতা থাকার কথা ২০ ফুট সেখানে আছে ১৫ ফুট। এসব দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। যদিও নদের পানি মাপার সময় কৌশলে বাঁধা দেন সওজের উপস্থিত কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন জানান, আমি নকশার সাথে জড়িত নই, প্রধান কার্যালয় থেকে এটি করেছে। তারাই ভালো বলতে পারবেন।