ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

ড্রাগন চাষে স্বপ্নপূরণের পথে চৌগাছার হেলাল খান

Published : Wednesday 03-March-2021 22:03:23 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৩:৫৯:০৩ am

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় ড্রাগন চাষ করে সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন বিদেশ ফেরত হেলাল খান। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৯ বিঘা জমির ড্রাগন বাগান ফুল ফলে পরিপূর্র্ণ হবে বলে তার ধারণা। সেই সুদিনের প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছেন তিনি।

হেলাল খান উপজেলার সিংহঝুলী গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে। হেলাল খান চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে চাকরি না করে সিঙ্গাপুর যান। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানীতে ভাল বেতনে চাকরি পান। কিছু দিনের মধ্যেই যোগ্যতার বলে পদোন্নতি পেয়ে কোস্পানি ভালো অবস্থান করে নেন। এক পর্যায়ে কোম্পানি তাকে একটি প্রজেক্টের দায়িত্ব দিয়ে মালদ্বীপ পাঠিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে প্রবাস জীবনে প্রায় ১২ বছর  কেটে যায় হেলাল খানের।

দেশে ফিরে নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্বেও কঠোর পরিশ্রমী হেলাল খান গতানুগতিক ব্যবসা না করে ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম মুনাফার কৃষিকাজে আত্মনিয়োগ করেন।

প্রথমে তিনি ছাগল পালনের জন্য ফার্ম গড়ে তোলেন। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়ে যান।

এরপর তিনি ভিয়েতনামী ড্রাগন ফল চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার ছোটখাটো দুই একজন ড্রাগন চাষীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তিনি এ চাষ শুরু করেন। উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মাঠে ৯ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ড্রাগন চাষ করেন। তার ৯ বিঘা জমির প্রতিটি খুটিতে চারটি চারা হিসেবে আট হাজার চারশত বারোটি চারা রোপণ করে বিগত ১৫ মাস ধরে স্বযতেœ পরিচর্যা করছেন চারাগুলো।

হেলাল খান জানান, জমিতে তিনি প্রতিমাসে প্রায় বিশ হাজার টাকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন । এছাড়া গোবর ও জৈব সারও দিতে হয়। বর্তমানে গাছগুলো ফুল ধরার একবারে উপযুক্ত পর্যায়ে।  মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে গাছগুলোতে ফুল আসা শুরু করবে বলে আশা করছেন তিনি।

প্রথম পর্যায়ে  প্রতিটি খুঁটির চারটি গাছ থেকে সাত থেকে আট কেজি ফল আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা চৌগাছা উপজেলার কোনো সারের দোকান থেকে ন্যায্যমূল্যে সার কেনা যায় না। যার ফলে টার্গেটের থেকে খরচের পরিমান বেড়ে যায়।

সরকারি সাহায্য সহযোগিতার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার তো কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য কম সুদে কৃষিঋণ দিয়ে থাকে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন কারা সে ঋণ পেয়েছে। যাদের কৃষি কাজের সাথে কোনো সর্ম্পক নেই তারা ঋণ নিয়ে বসে আছেন। তিনি আরো বলেন, নয় বিঘা জমিও বাগানটি এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে আমি ১৬ লাখ টাকা খরচ করেছি। ফল উঠানো পর্যন্ত আরো হয়তো তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করতে হবে। এই যে এতবড় একটা ঝুঁকি নিয়ে আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি কিন্তু কৃষি বিভাগের কাছে এর কোনো গুরুত্বও নেই। তাদের কাছে কোনো ইনফরমেশনও নেই। প্রতিদিন অনেক মানুষ আমার বাগান দেখতে আসে কিন্তু যাদের আসার কথা তারা একদিনও এলেননা এই আরকি ! 

ড্রাগন চাষ সর্ম্পকে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন বলেন, ড্রাগন প্রধাণত উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের ফসল। পৃথিবীর যে সমস্ত এলাকায় দিনের দৈঘ্য বেশি সেসব দেশে ড্রাগনের উৎপাদন ভাল হয়। আমাদের দেশেও ড্রাগনের চাষ বেশ আশাব্যঞ্জক। যারা চাষ করছেন তারা ভাল ফল পাচ্ছেন।