ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

পিতামাতার কাছ থেকে আলাদা থাকতে বলায় খুন করি, আটক স্বামীর স্বীকারোক্তি

Published : Monday 26-April-2021 21:35:03 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৪:৫২:৪২ am

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছা মাঠপাড়ার গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে হত্যার অভিযোগে রোববার রাতে স্বামী-শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো, মাঠপাড়ার হাসানুর রহমানের স্ত্রী বিলকিস বেগম ও তার ছেলে হাফেজ সোহেল রানা ওরফে ইমরান। সোমবার তাদের আদালতে আদালতে সোপর্দ করা হলে হাফেজ সোহেল রানা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

হাফেজ সোহেল রানা জানিয়েছে, সে পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন তাকে আলাদা হয়ে সংসার করতে বলত। এ নিয়ে আয়েশা তার সাথে প্রায় গোলযোগ করত। কয়েকদিন আগে এ নিয়ে তার মা রাগ করে মামা বাড়ি চলে যায়। সোহেল রানা রোববার মাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে সে বাড়ি আসেনা। রাতে সোহেল বাড়ি ফিরলে স্ত্রীর সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে যায়। এ সময় তার স্ত্রী এসে বাধা দিলে সোহেল তার গলা চেপে ধরে। আয়েশা খাতুন তার স্বামী সোহেলকে লাথি মেরে খাটের উপর ফেলে দিয়ে নিজে পড়ে যায়। সোহেলের কথার উত্তর না দেয়ায় সে আয়েশার মুখের উপর বালিশ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। পরে সোহেল তার স্ত্রী আয়েশার শাড়ি ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে বলে চিৎকার শুরু করে। প্রতিবেশীরা এসে আয়েশার লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ এসে সোহেল রানাকে তার মামাবাড়ি থেকে আটক করে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোর সদরের দিয়াপাড়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুনকে এক বছর আগে হাফেজ সোহেল রানা ওরফে ইমরানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সোহেল রানা ও পরিবারের লোকজন সাংসারিক কাজকর্ম নিয়ে প্রায় আয়েশা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। রোববার রাতে সোহেল রানা ও তার বাড়ির লোকজন সাংসারিক কাজ নিয়ে বকাবকির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে সংবাদ পায় আয়েশার পরিবার। এ ব্যাপারে নিহত আয়েশা খাতুনের পিতা ইলিয়াস হোসেন স্বামী-শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে আসামি করে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ঘটনার পরপরই সংবাদ পেয়ে নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেন। সোমবার অভিযোগে ভিত্তিতে আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করেন। আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।