ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

প্রতিদিন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গচ্চা যাচ্ছে ১০ লাখ টাকা

Published : Thursday 04-March-2021 22:24:11 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৫:৫৮:২০ am

নিজস্ব প্রতিবেদক : দু’দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা এবং ব্যবসায়ীদের আন্দোলনও কাজে আসছে না। বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্টাপোল বন্দরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আমদানি পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কমপক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি ট্রাক। ফলে দু’দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আর পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ট্রাক প্রতি জরিমানা দিতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা প্রতিদিন। এহিসেবে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা জরিমানা নিচ্ছে বনগাঁ পৌরসভা। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে এদেশের ভোক্তাদের।

বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ বিপুল জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভার মেয়র কোনো কারণ ছাড়াই কালিতলা পার্কিং সৃষ্টি করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য আসা ট্রাকগুলো জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়।  ট্রাকগুলো পেট্টাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউজ কর্পোরেশনের টার্মিনালে না পাঠিয়ে চাঁদার দাবিতে কালিতলা পার্কিংয়ে রেখে জরিমানা হিসেবে প্রতিট্রাক ২ হাজার টাকা আদায় করছে অবৈধভাবে। এতে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়ার পথে। এ কারণে স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আমদানি বাণিজ্য কমে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধ্স নামতে শুরু করেছে।

বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে প্রতি বছর ভারতের সঙ্গে অন্তত ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দশ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো ভারত থেকে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাকে।

যশোর জেলা মোটরপার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু জানান, ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলি পেট্টাপোলে প্রবেশের আগে ২০ দিনেরও বেশি সময় অপেক্ষা করা হয়। বনগাঁ ও পেট্টাপোল স্থলবন্দরের সিন্ডিকেট বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের ওপারে বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শংকর আঢ্য (ডাকু) ‘কালিতলা পার্কিং’ নামে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কিং তৈরি করেছেন। সরকারি পার্কিংয়ের চেয়ে এটি আকারে বড়। তার লোকজন জোর করেই আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো সেখানে প্রবেশ করাচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাক প্রতি পার্কিং খরচ নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা করে। সিরিয়ালের নামে বনগাঁর অধীনে বন্দরের ভারতীয় অংশে পার্কিং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দরগামী পণ্যবাহী ট্রাক ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করা হয়। অনেকে বিশেষ জরুরিভাবে মাল নিতে চাইলে বনগাঁ সিন্ডিকেটের সাথে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করে থাকেন।

বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়াডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্মসম্পাদক জামাল হোসেন জানান, দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। ওপারে পণ্য আমদানিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। পণ্য বন্দরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগায় অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামালের অভাবে সময়মত বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য রফতানি করতে না পরায় অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও। এই পরিস্থিতিতে গত ২ মার্চ সকালে বেনাপোল কাস্টম কমিশনার আজিজুর রহমান আমদানিকৃত ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বাড়াতে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, বেনাপোলের ওপারে এখন ভয়াবহ পণ্যজট লেগেছে। প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বন্দরের ওপারে বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতের বনগাঁর কালিতলা পার্কিং থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে এখন ১৫ দিন লেগে যাচ্ছে।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্থলপথে পণ্য আমদানি করতে বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্টাপোল বন্দরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শংকর আঢ্য (ডাকুর) নেতৃত্বে তার লোকজন প্রতিটি পণ্যবোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করছে। পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক ২০ দিন ওপারে আটকে থাকলে তাকে ৪০ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, আমদানিতে জটিলতার কারণে পচনশীল পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। রাজস্ব আদায়ও কমে যাচ্ছে।

এব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, ভারতীয় পেট্টাপোল কালিতলা পার্কিংয়ে বর্তমানে ৫ হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা আছে। আমরা রাজস্ব আয় ও ট্রাক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে ভারতীয় কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছি। এভাবে ট্রাক আটকে রাখা দু:খজনক। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।