ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই , ২০২১ ● ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

মণিরামপুরে মৎস্য ঘের এবং ফসলের ক্ষতি করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

Published : Sunday 20-June-2021 21:40:22 pm
এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই , ২০২১ ২৩:৪৬:২৬ pm

মণিরামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুরে মৎস্য ঘের এবং পাটক্ষেতের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মাটি কেটে নেয়ায় রাস্তা ভেঙে ঘেরের মধ্যে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ঘের এবং পাটক্ষেতের মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ববানরা রয়েছে সম্পূর্ণ নির্বিকার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকার কাবিটা বিশেষ প্রকল্পের আওতায় মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের বারিক সরদারের পুকুরপাড় হতে আবদুল কাদেরের রাইসমিল অভিমুখে কাঁচা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এক হাজার ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে কাঁচা রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয় ১০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান। তবে কাজটি সার্বিক তত্বাবধান করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল্লাহ বায়েজিদ এবং অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান। কাজটি ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি স্কেভেটর মেশিন দিয়ে রাতদিন মাটিকেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।  রাস্তার একপাশে সারিবদ্ধভাবে রয়েছে অসংখ্য মৎস্যঘের। অন্যপাশে রয়েছে পাট ক্ষেত রয়েছে ১৫/১৬ টি।

অভিযোগ রয়েছে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে পানিভরা মৎস্যঘের থকে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আবার পাট নষ্ট করে ক্ষেত থেকেও মাটি কেটে রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একদিকে মাটি কেটে নেওয়ায় রাস্তাভেঙে ঘেরের মধ্যে বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। আবার পাট কেটে চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। ফলে মৎস্যঘের মালিক এবং পাট চাষিদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে এ ব্যাপারে কথা হয় শহিদুল ইসলাম মিলন, আইয়ুব আলী, ইউসুফ আলী, বিধান চন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন ঘের মালিকের সাথে। তারা জানান, ঘেরের পাড় থেকে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে করে অচিরেই রাস্তা ভেঙে ঘেরের মধ্যে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিলন অভিযেগ করেন এ ব্যাপারে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিকে বার বার বলা সত্বেও কর্ণপাত করা হচ্ছে না। আবার পাট চাষি ইকরাম মোল্যা, ইশারত খা, আবু দাউদ, জালাল ফকিরের দাবি পাট নষ্ট করে ক্ষেত থেকে মাটিকেটে নেয়ায় তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।

তবে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তার দাবি সব জানেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রকল্প বাস্তাবায়ন অফিসার(পিআইও)। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ সরদার জানান, রাস্তাটি নির্মাণ করা এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণে কোনো ঘের মালিক এবং পাটচাষী অভিযোগ করতে পারেন না। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) আব্দুল্লাহ বায়েজিদের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রকল্পের অপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা মিজানুর রহমান (অফিস সহায়ক) জানান, রাস্তা নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। এছাড়াও রাস্তা নির্মাণে এলাকাবাসী আনন্দিত। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরও খবর