ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ শুক্রবার, ৩০ জুলাই , ২০২১ ● ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

যশোরে নতুন শনাক্ত ৯১, মৃত্যু ৫

Published : Sunday 20-June-2021 21:56:48 pm
এখন সময়: শুক্রবার, ৩০ জুলাই , ২০২১ ০১:১১:০৯ am

# উপসর্গ নিয়ে অনেকে ঘুরছে হাটবাজারে

# গ্রামের মানুষের ভরসা পল্লী চিকিৎসক

# নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কম

বিল্লাল হোসেন : গত ২৪ ঘন্টায় যশোর জেলায় ৩১৪ টি নমুনা পরীক্ষায় ৯১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ভারত ফেরত রয়েছেন ২ জন। এই সময়ের মধ্যে করোনাক্রান্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রোববারের হিসাবে যোগ করেছে সিভিল সার্জন। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১ জন, শার্শা উপজেলার ১ জন, ঝিকরগাছা উপজেলার ২ জন ও মণিরামপুর উপজেলার ১ জন রয়েছেন। তাদের ৩ জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও ২ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এই নিয়ে জেলায় মোট ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা  ডা. রেহেনেওয়াজ এই তথ্য জানিয়েছেন। আশঙ্কাজনকভাবে করোনার রোগী বেড়ে যাওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডজোন ও ইয়োলোজোনে কোনো শয্যা খালি নেই। রোগী আসলেই মেঝেতে রাখা হচ্ছে। এদিকে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ করোনার উপসর্গের রোগী ইচ্ছামতো চলাচল করছেন। নমুনা পরীক্ষায়ও আগ্রহ নেই। পল্লী চিকিৎসকই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে ১০৮ জনে ৭ জন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে জিন এক্সপার্ট মেশিনে ৮ জনে ৫ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) ল্যাবে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৫৭ জনের র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ৩০ জন ও অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২৪ জনের র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ৪৮ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। দুই ল্যাব ও জিন এক্সপার্ট মেশিনে শনাক্ত ১৩ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ জন, অভয়নগর উপজেলায় ১ জন ও শার্শা উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।

যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, জেনোম সেন্টারে যশোরের ৭ জন ছাড়াও নড়াইল জেলার ৩৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা পজেটিভ হয়েছে। দুই জেলার মোট ৪৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জন পজেটিভ ও ৪৬৩ জনের নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে গ্রামের মানুষের জ্বর, ঠান্ডা কাশি ও শরীরে ব্যথা নিয়ে ভয় থাকলেও করোনা পরীক্ষা করতে তারা খুব বেশি আগ্রহী না। পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে তারা প্যারাসিটামল ও অন্যান্য ওষুধ খেয়ে হাট বাজারে যাচ্ছেন ও আসছেন। এটা অবশ্যই মহামারীর এই সময় বড় ধরনের ফ্যাক্টর হতে পারে।

যশোর সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ২০ জুন পর্যন্ত যশোর জেলায় ৯ হাজার ৫শ’, ১৩ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১২৩ জন নারী পুরুষ। এর মধ্যে যশোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে ১০৬ জনের। আর ঢাকায় ৬ জন খুলনায় ৭ জন ও সাতক্ষীরার হাসপাতালে মারা গেছেন ১জন। করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা গ্রামাঞ্চলে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছেন তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছে সিভিল সার্জন জানান, পল্লী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না করে সকলকে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, করোনা রেডজোন ও ইয়োেেলা জোনে মোট শয্যা রয়েছে ৯৯ টি। এরমধ্যে ৮০ শয্যা রেডজোন। বাকি ১৯ শয্যা হলো ইয়োলো জোনে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শয্যার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত রেডজোনে ৮৭ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।



আরও খবর