ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের ১২১ ইউপিতে আজ ভোট

Published : Sunday 19-September-2021 21:45:51 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ২১:৪৭:২৭ pm

স্পন্দন ডেস্ক : সাতক্ষীরার তালা কলারোয়া,খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা এবং বাগেরহাটের  মোট ১২১টি ইউনিয়নে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে। অবাধ ও নিরপেক্ষা নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাইকগাছায় নির্বাচন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের রিপোর্টে

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার মোট ২১ ইউনিয়নে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  ইতেমধ্যে জেলা নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তালা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও কলারোয়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মোট ১৯৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। পথম ধাপের এই নির্বাচনে ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে কলারোয়ার উপজেলার হেলাতলা ও তালা উপজেলার খলিলনগর, তেঁতুলিয়া ও তালা সদর এই ৪ ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাকি ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে স্বচ্ছ ব্যালট বক্্রসহ বিভিন্ন নির্বাচন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসার নাজমুল কবির জানান, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসারের পাশাপাশি ৫ জনকে সসস্ত্র পুলিশ সদস্য ১৭ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন বিধি নিষেধ রক্ষার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া আইশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা মঠে কাজ করবে। সাতক্ষীরার তালা ও কলারেরায়া উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৭৫ হাজার  ২৯৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। দু’টি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দাকোপ : দাকোপে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্র গুলোতে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সকল উপকরণ। নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ট করতে ৬ জন ম্যাজিষ্টেটের অধীনে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব বিজিবি ও কোস্টগার্ড। বিরতিহীন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ্বাস রোববার সকালে পৃথক ভাবে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফ করেন। তিনি উপস্থিত থেকে কেন্দ্র গুলোতে ব্যালট পেপারসহ ভোটের কাজে ব্যবহৃত সকল উপকরণ স্ব স্ব কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হস্তান্তর করেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, ইউপি নির্বাচনে মোট ৮১ টি কেন্দ্রে ৮১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৬৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৭৩৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট মিন্টু বিশ্বাস জানিয়েছেন নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনিসহ মোট ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের ৫ সদস্য এবং ১৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৯ ইউনিয়নে ১ জন করে পরিদর্শকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের পৃথক ৯ টি মোবাইল টিম, ৩ টি স্ট্রাইকিং টিম, ৩ প্লাটুন র‌্যাব, ৩ প্লাটুন বিজিবি এবং ৩ প্লাটুন কোষ্ট গার্ড নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন ইতোমধ্যে সকল কেন্দ্রে দায়িত্বরত অফিসার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান করছে। দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকেন্দার আলী নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ৪৮০ জন পুলিশ এবং ১৩৭৭ জন আনসার সদস্য নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। এবারের নির্বাচনে ৩৩ জন চেয়ারম্যান, ১১৬ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য এবং ৩৬৩ জন সাধারন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৯১ জন ভোটার তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছা উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন। ৬ ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২ হাজার ২৫৩ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। সকল ইউনিয়নের জন্য র‌্যাবের তিনটি পেট্রোল টিম, তিন পাটুন বিজিবি, তিন পাটুন কোষ্টগার্ড, ১ হাজার, ৫৬৫ জন আনাসার ও ৫৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। ওসি এজাজ শফী জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ কেউ বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ কেউ ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালালে তা বরদাস্ত করা হবে না। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্ছ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তবে, পাইকগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনীয় দুপক্ষের মিছিল শেষে দ্বিতীয় বার মারমুখি অবস্থানে থাকা কালে চাঁদখালী ইউনিয়ন থেকে পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো ইউনিয়ন আ’লীগের সদস্য সচীব ধামরাইল গ্রামের আজিজুল সরদার, একই এলাকার আসাদুল সরদার,নজরুল সরদার, শাহীনুর গাজী, মুকুল মোড়ল ও সাব্বির হোসেন মোড়ল। শনিবার রাত ১১টায় আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের মিছিল শেষে তারা একে অপরে সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর দ্বিতীয়বার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওসি মো. এজাজ শফীর নেতৃত্বে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাদেরকে আইনে প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি মো: এজাজ শফী জানান, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তার করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

বাগেরহাট : বাগেরহাটের ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৬৫ টি ইউনিয়নের ১০০ জন প্রার্থীর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ৩৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিপক্ষে দলটি বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সহিংসতার আশঙ্কায় জেলার ৯টি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নের ৫৯৯টি কেন্দ্রের সবকটিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বাগেরহাট জেলায় ইউপি নির্বাচর শান্তিপূর্ন করতে নেয়া হয়েছে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ছাড়া নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২শ ৫৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ৭৬৮ জন। নির্বাচনে ৫৯৯টি কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা দুই হাজার ৮শ ১৯টি। এছাড়া জেলার কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ওই ইউনিয়নে ভোট হচ্ছে না।

রোববার দুপুর থেকেই জেলার ৯টি উপজেলা সদর থেকে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ২২ জন সদস্যের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ৩ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩টি টহল টিম, ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজি বেনজির আহমেদ বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন ১০০ জন, সদস্য প্রার্থী আছেন দুই হাজার ২শ ৫৫ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছেন ৭৬৮ জন। নির্বাচনে ৫৯৯টি কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা দুই হাজার ৮শ ১৯টি। নির্বাচনে ৫৯৯টি কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা দুই হাজার ৮১৯টি। জেলার সব কেন্দ্রেকেই ঝুঁকিপূর্ন ঘোষণা করে নির্বাচন শান্তিপূর্ন করতে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যেসব ইউপিতে ভোট হবে সেগুলো হচ্ছে

খুলনার কয়রার আমাদি, বাগালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, কয়রা, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী।

দাকোপের পানখালী, দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, সুতারখালী, কামারখোলা, তিলডাঙ্গা, বাজুয়া ও বানিশান্তা। বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও আমিরপুর। দিঘলিয়ার গাজীরহাট, বারাকপুর, দিঘলিয়া, সেনহাটা, আড়ংঘাটা ও যোগীপুল।

পাইকগাছার সোলাদানা, রাড়ুলী, গড়ইখালী, চাঁদখালী, দেলুটি, লতা ও কপিলমুনি।

বাগেরহাটের ফকিরহাটের বেতাগা, লখপুর, পিলজংগ, ফকিরহাট, বাহিরদিয়া, মানসা, নলধা মৌভোগ ও শুভদিয়া।

মোল্লাহাটের উদয়পুর, চুনখোলা, কোদালিয়া, আটজুড়ি, গাওলা ও কুলিয়া।

চিতলমারীর বড়বাড়িয়া, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী, চরবানিয়ারী, কলাতলা ও সন্তোষপুর। কচুয়ার গজালিয়া, ধোপাখালী, মঘিয়া, গোপালপুর, রাঢ়ীপাড়া ও বাধাল। রামপালের গৌরম্ভা, বাইনতলা, হুড়কা, মল্লিকের বেড়, বাঁশতলী, উজলপুর, রামপাল, পেড়িখালী ও ভোজপাতিয়া।

মোংলার চাঁদপাই, বুড়িরডাঙ্গা, চিলা, মিঠাখালী, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন।

মোরেলগঞ্জের পঞ্চকরন, দৈবজ্ঞহাটী, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, বলইবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, বহরবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া, মোরেলগঞ্জ, তেলিগাতী, পুটিখালী, রামচন্দ্রপুর, জিউধরা, বারইখালী।

শরণখোলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, সাউথখালী।

বাগেরহাট সদরের বারুইপাড়া, বেমরতা, বিষ্ণুপুর, ডেমা, কাড়াপাড়া, খানপুর ও রাখালগাছি।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার কয়লা, হেলাতলা, যুগীখালী, জয়নগর, জালালাবাদ, লাঙ্গলঝাড়া, কেঁড়গাছি, সোনাবাড়িয়া, চন্দনপুর ও দেয়াড়া।

তালার ধানদিয়া, তেঁতুলিয়া, তালা, ইসলামকাটি, মাগুরা, খেসরা, জালালপুর, খলিলনগর, নগরঘাটা, সরুলিয়া ও খলিষখালী।