ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

চৌগাছার শতবর্ষী বিধবার কপালে জোটে না কোনো ভাতা

Published : Friday 23-April-2021 22:38:00 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৩:১৬:২১ am

বাবুল আক্তার, চৌগাছা :
‘চোখে দেখি না। কানে শুনি না। একা চলতেও পারি না। তবে ক্ষুধা লাগলে পেটটা বড্ড ঝামেলা করে। আল্লাহ আমার মরণ দেয় না কেন? মরলে বাঁচি! আর পারছি না! কেন যে আল্লাহু দুনিয়ায় পাঠাইল। স্বামী বেঁচে থাকতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অতি কষ্টে দিন চলেছে। পরের বাড়িতে কাজকাম করে সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিয়েছি। এখন আর পারি না। সন্তানরা সবাই ভ্যান-রিশকা চালায়। তাদের সংসারে দু-বেলা দুমুঠো খাবার জুগাতেই তারা নাজেহাল।’ কান্না জড়িত কন্ঠে এ কথাগুলো বললেন বয়সের ভারে নূয়েপড়া আয়শা খাতুন।
শতবর্ষী আয়শা খাতুনের বাড়ি চৌগাছা পৌর এলাকার হুদাচৌগাছায়। ২৩ এপ্রিল হুদাচৌগাছা গ্রামের আয়শা খাতুনের বাড়িতে যেয়ে জানা যায়, ভোটার আইডিতে ৯০ বছর হলেও বাস্তবে তার বয়স একশর উপরে। স্বামী মইজ উদ্দীন মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। তার পরেও তিনি বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা পান না। সাংবাদিক জানতে পেরে আক্ষেপ করে বলেন, ‘দীর্ঘ জীবনের শেষে শরীর আর চলছে না। তবুও যে কয়দিন বেঁচে থাকি রাক্ষসী পেটে দু বেলা দু-মুঠো খাবার তো দিতে হবে ?। আমি স্বামী হারিয়েছি। বয়স একশ বছর হয়েছে সরকারি  আনুদান পাতি হলি আর কি কত্তি হবে।’
বর্তমানে আয়শা খাতুন ছেলে ফজের আলীর বাড়িতে একটি টিনের ছাপড়ায় খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পৌর মেয়র কাউন্সিলরদের নিকট বার বার গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বয়সের ভারে নুয়েপড়া আয়শা আজ পর্যন্ত বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পাননি।  ভ্যান চালক ছেলে ফজের আলী বলেন, আমার অভাবের সংসার জুটাতে পারলে মাকে খেতে দিই, না পারলে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকি। ছেলে ফজের আলী ও বৌমা মধুমালা বলেন, আর কত বয়স হলে মা বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা পাবেন।
আয়শা খাতুন ৬ ছেলে ও ২ মেয়ের জননী। ছেলে মেয়েদের সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। এদের মধ্যে বড় ছেলে কাঞ্চন আলী মারা গেছে, আজেহার আলী ভ্যান চালায়, আনছার আলী ঢাকায় রিকশা চালায়, দেলোয়ার হোসেন শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। সেখানে ক্ষেত মুজুরের কাজ করেন। কওছার আলী যশোরে রিকশা চালান। এক কথায় বলা চলে এ পরিবারটি দিন আনা দিন খাওয়া। সকলেই পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো মতে চলে।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড তাকে দেয়া দরকার। সে প্রকৃত অসহায় ও পাওয়ার যোগ্য। এবার কার্ড আসলে প্রথমেই তাকে দেব ইনশাল্লাহ।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেহেদী হাসান বলেন,  বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতার তালিকা স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা করে থাকেন। আমরা কেবল মাত্র অনুমোদন দিয়ে থাকি। তার নাম কেন আসেনি সেটা আমার জানা নেই। তবে এ বছর সরকারি সকল ভাতার কার্ড বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, আগামী রবিবার আমার নিকট ঐ মহিলার ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন, দেখি কিছু করা যায় কিনা।