ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

বেনাপোল কাস্টম হাউজ কার্যক্রম চালুর ২০ বছরেও লোকবল নিয়োগ হয়নি, ১৭১ পদ শূন্য

Published : Monday 15-February-2021 22:31:15 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৫:৩১:২৩ am

আবদুল কাদের: বেনাপোল কাস্টম হাউজ চালু হয় ২০০০ সালে। এর আগে মোংলা কাস্টমের অধীনে ছিল তারা। গত ২০ বছরেও বেনাপোল কাস্টম হাউজে লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। এতে কাজের জট হচ্ছে কাস্টম হাউজটিতে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ১৮২টি শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করলেও সেটির বাস্তবায়ন হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছেন, করোনাকালে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা। তবে লোকবল সংকটে কাজের গতি কমছেনা।

কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউজে মোট মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ১৭১টি। প্রথম শ্রেণির ৪৩টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৮টি পদ, দ্বিতীয় শ্রেণির ১২৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৮২ জন। শূন্য রয়েছে ৪২টি পদ। তৃতীয় শ্রেণির ১৫১টি পদের মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ১১৩টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ১৮টি পদের স্থলে ৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

এরমধ্যে অতিরিক্ত কমিশনারের দু’টি পদের বিপরীতে একটি, যুগ্ম কমিশনারের দু’টি পদের স্থলে একটি, সহকারী কমিশনারের ৮টি পদের স্থলে ৫টি, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ৩৮টি, উচ্চমান সহকারীর ২১টি পদের বিপরীতে সবকটি, গাড়ি চালকের ১১টি পদের মধ্যে ১০টি এবং সিপাহীর ৮৯পি পদের বিপরীতে ৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পদে লোকবল চলছে যশোর ও খুলনা ভ্যাট অফিসের জনবল দিয়ে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপাল দিয়ে দেশের বেশিরভাগ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যে কারণে কাস্টমের লোকবল কম এটা হওয়া উচিত না। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। কাস্টম ও বন্দরের উন্নয়ন হলে বছরে এখান থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়। আমদানি পণ্য থেকে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়ে থাকে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয় ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৮ মেট্রিক টন পণ্য। বিপরীতে রফতানি হয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৯ মেট্রিক টন পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৯ মেট্রিক টন, রফতানি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন, বিপরীতে রফতানি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৩ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি ২১ লাখ ৮১ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন, বিপরীতে রফতানি ৪ লাখ এক হাজার ১১৭ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন, বিপরীতে রফতানি ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ৫ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন, বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৫ মেট্রিক টন পণ্য।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে-শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, মেশিনারি যন্ত্রাংশ, সুতা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য। আর রফতানি পণ্যের মধ্যে- পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, মেলামাইন, তৈরি পোশাক ও বসুন্ধরা টিসু উল্লেখ্যযোগ্য।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, দেশের স্থলপথে আমদানি-রফতানির ৭০ শতাংশ হয় বেনাপোল দিয়ে। এখানে লোকবল শূন্য থাকা উচিত না। এতে অন্য জনবলের উপর বেশি চাপ পড়ে। কাস্টমের লোকবল পূরণ এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে সরকারের রাজস্ব দ্বিগুণ আদায় হতো।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, কাস্টমের জনবল কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজের গতি কমে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আবার যারা কর্মরত আছেন তাদেরকে বাড়তি কাজের চাপ নিতে হচ্ছে। এজন্য সরকারকে দ্রুত বেনাপোল কাস্টমে লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য কাজের সুবিধা বাড়বে।

এব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো: আজিজুর রহমান জানান, করোনাকালে নিয়োগ সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়োগ হবে। আর লোকবল তেমন সংকট নেই। কেননা সবকাজ করে থাকেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। সেখানে কোনো ঘাটতি নেই।