ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ● ৬ আষাঢ় ১৪২৮

চৌগাছার এইচএম ব্রিকসের দখলদার উচ্ছেদে দ্বারে দ্বারে মালিক

Published : Saturday 06-February-2021 21:08:42 pm
এখন সময়: সোমবার, ২১ জুন , ২০২১ ০৩:৩৬:০৪ am

নিজস্ব প্রতিবেদক : চৌগাছার কমলাপুরের এইচএম ব্রিকসের দখলদার উচ্ছেদে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মালিক মাহাবুবুর রহমান। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বারবার তাগাদা দিলেও হাজির হননি দলখদার গোলাম রসুল। অবশেষে তিনি প্রতারণার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

প্রতারণা মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চৌগাছার কমলাপুর মোড়ে বিভিন্ন লোকের জমি লিজ নিয়ে মাহাবুবুর রহমান এইচএম ব্রিকস নামে ইটভাটা তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন। ইটভাটা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, আয়কর ও ফায়ার লাইসেন্স মাহাবুবুর রহমানের নামে। ২০১৯ সালে অর্থিক সংকটের কারণে তিনি ওয়ার্কি শেয়ার দিয়ে গোলাম রসুলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এক বছরের জন্য। এরপর গোলম রসুল ভাটায় অংশিদার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে তিনি ভাটায় ইট উৎপাদন করে বিক্রি করেন। যার হিসাব তিনি মাহাবুবুর রহমানকে দেননি। বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী গোলাম রসুল এ ভাটা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ হিসাব চাইতে গেলে গোলাম রসুল তাকে হিসাব না দিয়ে খুন জখমের হুমকি দেন।

মাহাবুবুর রহমান ভাটায় গেলে গোলাম রসুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ ব্যাপারে গত ১৬ ডিসেম্বর তিনি চৌগাছা থানায় একটি জিডি করেন। জিডির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গোলাম রসুলকে থানায় ডাকলেও তিনি কোনো দিন যাননি।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ভাটার মলিক মাহাবুবুর রহমান আন্দারকোটা গ্রামের নুরুল, জিয়াউর, বাবুকে নিয়ে ভাটায় যান। তিনি শেয়ার মালিক গোলাম রসুলের কাছে ভাটার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি তাকে কোনো হিসাব দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে তিনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। অবশেষে মাহাবুবুর রহমান মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভাটার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১২ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্য আগামি ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে দিন ধার্য আছে।

এইচএম ভাটার মালিক মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণে গোলাম রসুলের কাছে অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করা হয়। সুচতুর গোলাম রসুল কিছুদিনের মধ্যে ভাটার পুরাতন শ্রমিকদের ছাঁটায় করে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেন। এরপর ভাটায় উৎপাদিত ইট বিক্রি করে তিনি নিজে আত্মসাৎ করেছেন। হিসাব চেয়ে ব্যর্থ হয়ে থানায় জিডি ও আদালতে মামলা করেছি। এরপর গোলাম রসুল ভাটার সাইবোর্ডে আমার নাম কেটে দিয়ে নিজের নাম খিলে একক দখলদারিত্ব করে নিয়েছেন। একদিকে ভাটা দখল অন্যদিকে পাওনারদের তাগিদে উতালা হয়ে যাচ্ছি। তিনি ভাটার দখলদার গোলাম রসুলকে উচ্ছেদে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে। যাতে তিনি দ্রুত  পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করতে পারেন।

এইচএম ব্রিকসের অংশিদার গোলাম রসুল জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের সময়ে মাহাবুবুর রহমান ভাটার অর্ধেক মালিকানা আমার কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর যৌথ ব্যবসা পরিচানকালে মাহাবুবুর রহমান ইট বিক্রির বিপুল টাকা নিয়ে দেনা পরিশোধ করেছেন। সেই টাকার অর্ধেক পাওনাদার হিসেবে মাহাবুবুর রহমানের এখন ভাটার মালিকানা নেই।