ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

নাতিকে বাঁচাতে বৃদ্ধ নানি ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

Published : Sunday 14-February-2021 22:13:57 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৬:৩৮:২৮ am

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : রোববার দুপুরে রুগ্ন শরীর ময়লা কাপড়ে এক বৃদ্ধা কয়েকটি একশত টাকার নোট এবং ডাক্তারের দেয়া রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়ে শিল্প শহর নওয়াপাড়ার স্টেশন বাজার এলাকায় বিভিন্ন সারের দোকানে ঘুরছিলেন। ছুটছিলেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। পাগলপ্রায় ওই বৃদ্ধ নারী এক সময় নওয়াপাড়া বাজার শাখা উত্তরা ব্যাংকের সামনে হাইস্পিড ঘাটে মেসার্স মাহিন এন্টারপ্রাইজের সামনে এসে মাটিতে বসে পড়লেন এবং চিৎকার করে কাঁদকে শুরু করলেন, আর বলতে থাকলেন আমার নাতিকে তোমরা বাঁচাও।

বৃদ্ধার এ অবস্থা দেখে কাছে এগিয়ে গেলাম এবং এ ধরণের আচরণের কারণ জানতে চাইলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তার নাম রাহেলা বেগম। অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে সিদ্ধিপাশা গ্রামে বাড়ি। স্বামীর নাম মৃত সেলিম সরদার। আমার মেয়ে লিপি খাতুনের একমাত্র মেয়ে শাহিনা আক্তার রুমা (২০) মারাত্মক অসুস্থ। রুমা আমার নাতি। অল্প কয়েকদিন পূর্বে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের কার্ডিওলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. স্বদেশ কুমার চক্রবর্তী রুমার বুকের বাম পাশের ভাল্ব শুকিয়ে গেছে বলে জানান। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপারেশন করাতে না পারলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। অপারেশনের জন্য প্রয়োজন দুই লাখ টাকা।

নানি কেন নাতির জন্য এভাবে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সংসার ও মেয়ের প্রতিদিনের ওষুধের খরচ যোগাতে রুমার মা আমার মেয়ে লিপি খাতুন ও তার স্বামী আবু বক্কার মিলে শ্রমিকের কাজ করে। তাদের নেই কোন সম্পত্তি। জমানো টাকা মেয়ের চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে। রুমাকে বাঁচাতে এখন দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। সেই টাকার জন্য আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

পরে বৃদ্ধা রাহেলা বেগমের দেয়া রুমার মায়ের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, রুমা সিদ্ধিপাশা আমতলা পিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে ঢাকা পরে খুলনায় ডাক্তার দেখানোর পর রুমার ভাল্ব শুকিয়ে যাচ্ছে বলে জানতে পারি। এখন আর ওষুধে কাজ হচ্ছে না। ডাক্তাররা বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে। আমার মেয়ে এখন শুকিয়ে কংকাল হয়ে গেছে। অপারেশনের জন্য আমি ও আমার স্বামী আফিল জুট মিলে অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ করছি। উপার্জনের সব টাকা ওষুধে ব্যয় হচ্ছে। দুই লাখ টাকা না হলে অপারেশন হবে না। কোথায় পাবো, কে দিবে এই টাকা? তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের নিকট একমাত্র মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় মা। যোগাযোগ-লিপি খাতুন- ০১৯১৫-৭০৯২০৪।