ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ● ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

পশ্চিম সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদে বাঘ আতঙ্ক

Published : Monday 01-February-2021 15:42:28 pm
এখন সময়: রবিবার, ১৬ মে , ২০২১ ০৪:৫৭:৩৮ am

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা: পশ্চিম সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাঘের ভয়ে গ্রামবাসী সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছে। বিশেষ করে রাতে তারা বিনা কারণে বাড়ির বাইরে থাকছে না। তাদের ধারণা যে কোনো সময় বাঘ জনপদে ঢুকে মানুষ অথবা পোষা প্রাণীদের ওপর হানা দিতে পারে।

গত ১৯ জানুয়ারি শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কলবাড়ির বিপরীতে একটি বাঘকে জঙ্গলের একটি খালে ভাটার সময় পার হতে দেখে। এরপর তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। মূহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে সুন্দরবনের জনপদগুলিতে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর বনবিভাগ পুরো এলাকায় মাইকিং করে বাঘের আনাগোনার কথা জানিয়ে গ্রামবাসীকে সতর্ক করে। ফলে মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষজন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। স্থানীয় মুন্সিগঞ্জ বাজার, হরিনগর বাজার, কলবাড়ি বাজারসহ আশপাশের সব বাজারঘাটে ভিড় কমে গেছে। ব্যবসায়ীরাও সতর্ক হয়ে গেছেন। এমনকি বনজীবীরাও নৌকায় এবং জঙ্গলে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছে। সন্ধ্যার পর কোনো কারণে বের হতে হলে গ্রামবাসী হাতে লাঠি ও টর্চলাইট এমনকি হুইসেল নিয়ে কয়েকজন একসঙ্গে চলফেরা করছে। তবে গ্রামবাসী বলছে, কয়েক বছর আগে এ এলাকায় বাঘ দেখা গিয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত কোনো বাঘ তাদের নজরে আসেনি।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি রাতে সুন্দরবন থেকে একটি বাঘ বাগেরহাটের স্মরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে ঢুকে পড়ে। বাঘটি ঐ গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ো বিচরণ করে আবার সুন্দরবনে ফিরে যায়। গ্রামের ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, নদীর চরে বাঘের পায়ের অসংখ্যক ছাপ পড়ে রয়েছে। এর ৩ মাস আগে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর আরও একটি বাঘ ভোলা নদী পার হয়ে বাটেরহাটের স্মরণখোলা উপজেলার ধামসাগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে ঢুকেছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের কদমতলি ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, আমরা বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করেছি। এখনও করে যাচ্ছি। তবে বাঘের খাল পারাপারের যে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে সেটি বেশ আগের। এটি বর্তমান সময়ের কেনো ভিডিও নয়। তিনি আরও বলেন, বাঘ সচরাচর শীত মৌসুমে পানিতে নামে না। আরও কিছুদিন পর প্রজননের সময় এলে শিকার এবং মিষ্টি পানির খোঁজে বাঘ বনভূমি থেকে জনপদে এসে থাকে। এ ব্যাপারে সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত ওয়াইল্ড টিম ও ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা গ্রামের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের বিচারণ ক্ষেত্রের সঙ্কট, খাদ্যাভাব, বাঘের বিচারণ ক্ষেত্রের একাধিক বাঘের সমাগম ঘটলে আধিপত্য নিয়ে বাঘের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তখন অনেক সময় বাঘ নিজস্ব এলাকার খোঁজে এলাকা ছেড়ে লোকালয়ের দিকে ঢুকে পড়ে। তাছাড়া শীতকালে সুন্দরবন সংলগ্ন খাল ও নদীতে পানি কম থাকায় বাঘ নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে আসে।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, জানুয়ারিতে মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট ষ্টেশনের পাশে একটি বাঘের আনাগোনা দেখা যায়। বাঘ গ্রামে আসেনি। বাঘ বনে রয়েছে। শ্যামনগর ও বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট স্টেশনের সদস্যরা বাঘের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ পড়েছে কিনা তা দেখার জন্য সদস্য পায়ে হেঁটে হেঁটে খোঁজ নিচ্ছে। তাছাড়া সুন্দর সুরক্ষায় নিয়োজিত ওয়াইল্ডি টিম ও ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা গ্রামের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।