ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সেচ খালের দুইপাড় থেকে শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছেন প্রভাবশালী এক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা দিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। আসামিরা হলেন- উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শরিফুল ইসলাম ও কাঠ ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান। তাদের দুজনের বাড়িই ওই ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে। কেটে নেয়া গাছের সংখ্যা ৫০-৬০ টি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শিমুল, রেইনট্রিসহ বনজ ও ফলজ গাছ। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতব্রীজ থেকে হরিশপুর পর্যন্ত এস- ৩ এ সেচ খালের ২.৬ কিলোমিটার অংশের রিপিয়ারিং ( সংরক্ষণ ও পরিচালন) কাজের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে দরপত্র আহবান করা হয়। যার কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত ১১ মার্চ। স্থানীয়দের দাবি, সেচ খালটির দুইপাশে রেইনট্রি, শিশু, কাঠালসহ বিভিন্ন ধরণের বনজ ও ফলজ গাছ ছিলো। গত কয়েকদিন ধরে গাছগুলি স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন কেটে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার সরেজমিনে সেচ খালটিতে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুইপাশে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট গাছ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ডালপালা। অন্তত তিন থেকে চারদিন একটানা কেটে নেওয়া হয়েছে অসংখ্য গাছ। জোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজেদুর রহমান রনি জানান, কয়েকদিন ধরেই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে সেচ খালের দুইপাশ থেকে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। তারা খালটির এক কিলোমিটার অংশের অন্তত দুই শতাধিক গাছ কেটেছে। কোনো প্রকার নিলাম ছাড়াই গায়ের জোরে এই গাছ কাটা হয়েছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি গাছের ব্যবসা করেন। ওই গাছগুলো ব্যক্তি মালিকাধীন ছিলো। যারা গাছ লাগিয়েছিলেন তারা আমাদের কাছে বিক্রি করেছেন। তাই আমরা সেগুলি কেটেছি। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সেচ খালটি যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের। তাই এর অধীন সব সম্পদ এই কর্তৃপক্ষের। এটি ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। তিনি আরও বলেন, খালপাড়ের গাছগুলো বেআইনিভাবে কেটে নেয়া হয়েছে। আমরা থানায় মামলা দিয়েছি। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ একটি এফআইআর দিয়েছে। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।