প্রেস বিজ্ঞপ্তি : মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষদের নিয়ে দুদিনব্যাপি জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুক্রবার ১২ জুন বিকেলে শেষ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর'র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসুচিটি গত বৃহস্পতিবার সকালে সংগঠনের কনফারেন্স রুমে শুরু হয়। দাতা সংস্থা সুইজারল্যান্ড এম্বাসির অর্থায়নে ও উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ''আশ্বাস'' প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এসএম আজহারুল ইসলাম উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণাসহ প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সারভাইভারদের উদ্দেশ্য বলেন, ''আশ্বাস" প্রকল্প বিদেশ থেকে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসা নারী পুরুষদের নিয়ে কাজ করছে । প্রকল্পটি এই ধরনের ভাগ্য বিপর্যয় মানুষদের জীবনের মোড় ঘুরাতে বদ্ধপরিকর। তাই প্রশিক্ষণ শেষে এই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটানো কিছুটা হলেও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন । তাই প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কোন বিকল্প নেই। দুদিনব্যাপি এ কর্মসূচির সেশন পরিচালনা করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম আজহারুল ইসলাম, প্রকল্পের কেস ম্যানেজার সোশ্যাল সার্ভিস কৃষ্ণা রানী সাহা, কেস ম্যানেজার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ফাতিমা আফরোজ রুমকি, তথ্য কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সোশ্যাল মবিলাইজার বজলুর রহমান, সোশ্যাল মবিলাইজার বিপ্লব কুমার রাহা, সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর তহমিনা আক্তার প্রমুখ । প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সারভাইভারগণ এককভাবে ও গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের মতামত উপস্থাপন করেন। কর্মসূচিতে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল মানুষ কে কি ও কেন? আত্ম অনুসন্ধান, আমাদের ইচ্ছা বনাম স্বপ্ন, অধিকার ও দায়িত্ব, পরিবর্তনের লক্ষ্য ও উদ্যোগ গ্রহণ, আত্মবিশ্বাস নির্মাণ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান , হাল ছেড়ে দেয়া না দেয়া ,জনযোগ সম্মতায়ন, স্বপ্নপূরণে নিজের সম্ভাবনা দায় বদ্ধতা, অভিবাসন প্রক্রিয়া, মানব পাচার কি ও এর শাস্তি এবং করণীয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সারভাইভাররা বলেছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন । প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সারভাইভারগণ ''আশ্বাস'' প্রকল্পের বিভিন্ন ট্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মতামত দেন । দু'দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল সারভাইভারদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, সামাজিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস নির্মাণে সহযোগিতা করা। প্রশিক্ষণে যশোরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ২৩ জন মানব পাচারের পর উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ সারভাইভার উপস্থিত ছিলেন।