মিরাজুল কবীর টিটো : সোনালী ব্যাংক যশোরের ঝিকরগাছা শাখা থেকে টানা পাঁচ বছর মৃত মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত দেখিয়ে টাকা উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এক যুগ পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ব্যাংকের নিজস্ব ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় টাকা আত্মসাতে জড়িতদের শাস্তি ঝুলে আছে বলে জানান ঝিকরগাছা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার পুষ্পজিৎ মজুমদার। ব্যাংক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখা থেকে ২০১৩ সালে থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মৃত মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত দেখিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ওই সময়কার ব্যাংকের ঝিকরগাছা শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার জাহাঙ্গীর আলম তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খণিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামের চেক চুরি ও স্বাক্ষর জাল করে তার একাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অপকর্ম শুরু করেন। একই বছর মৃত মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান ও মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের স্ত্রী মৃত আমেনা খাতুনের মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এভাবে তিনি পাঁচ বছর ধরে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে থাকেন। ২০১৮ সালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ব্যাংকে মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর শুরু হয় উপজেলা প্রশাসন ও ব্যাংকের নিরীক্ষা দলের তদন্তের দৌড় ঝাপ। তদন্তে উঠে আছে ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগী হিসেবে স্থানীয় দুই মুক্তিযোদ্ধার নাম। ২০২০ ও ২০২১ সালের সব তদন্ত প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ব্যাংকের চৌগাছা শাখায় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু ওই সময়কার এক মন্ত্রীরডিও লেটারের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম নিজের সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল ও সমস্ত আর্থিক কেলেঙ্কারীর পুনরায় তদন্ত করান। তদন্ত পরবর্তী সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিমের নির্দেশে নতুন করে বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা হয় এবং পক্ষপাততূলক রিপোর্টের প্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ হালকা করার জন্য ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের ঝিকরগাছা শাখায় কম্পিউটার বিভাগে যারা কাজ করতেন তাদের সকলের নামে চার্জশিট দেয়া হয়। ২০২০,২০২১ ও ২০২২ সালের অডিট রিপোর্ট এবং ২০২৫ সালে জাহাঙ্গীর আলমের জালিয়াতির বিষয়ে যশোর কর্পোরেট শখা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা শাখায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কোথাও ঝিকরগাছা শাখায় যারা কম্পিউটার বিভাগে কাজ করতেন তাদের নাম উঠে আসেনি। তারপরও ব্যাংক থেকে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার ম্যানেজার পুস্পজিৎ মজুমদার বলেন- ২০১৩ সালের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চাজর্শিট দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রধান আসামী ওই সময়কার প্রিন্সিপাল অফিসার পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করা হয়। এখন ব্যাংকের নিজস্ব ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছি। সোনালী ব্যাংকে ঢাকা হেড অফিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদের ০১৮১৭-৫০৮৩৩২ নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে বলেন-আমি মিটিংয়ে আছি কথা বলতে পারবো না বলে লাইন কেটে দেন। সোনালী ব্যাংকে ঢাকার হেড অফিসের এমডি শওকত আলীর ০১৭২৬ ০২২০৬৪ নম্বরে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।