নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর-চৌগাছা সড়কের পাশে পড়ে থাকা ৬৫ বছরের আল আমিন মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। স্বজনদের দাবি, আখ কেনার জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা ও তার নতুন ভ্যানটি পাওয়া যাচ্ছে না। আল আমিন মোল্লা চৌগাছা পৌরসভার শাহাদাৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকার মৃত মোজাম মোল্লার ছেলে। তিনি চৌগাছা বাজারের বাবলাতলা নামক স্থানে আখ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের পাশে আল আমিন মোল্লাকে পড়ে থাকতে দেখেন পথচারী রানা হোসেন। পরে তিনি তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। আল আমিন মোল্লার স্বজনরা জানান, আখ কেনার জন্য তিনি বাড়ি থেকে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে বের হয়েছিলেন। তার নতুন ভ্যানটিও পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের পাশে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা এবং টাকা ও ভ্যান না পাওয়ায় তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সন্দেহ করছেন তারা। হাসপাতালের ভর্তি রোস্টার খাতায় বহনকারী হিসেবে রানা হোসেনের নাম রয়েছে। তবে খাতায় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তিনি ঠিক কোথা থেকে এবং কীভাবে আল আমিন মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র দাবি করেছেন, আল আমিন যশোর শহরের পালবাড়ির অদূরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বলে আল আমিন মোল্লাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির সময় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। হাসপাতালে দায়িত্বরত যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আল আমিন মোল্লা প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে নিজস্ব ভ্যান চালিয়ে পাইকারি বাজার থেকে আখ কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তাকে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে তার ভ্যান ও সঙ্গে থাকা প্রায় ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়নি। এ কারণে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আল আমিন মোল্লার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও নিখোঁজ টাকা ও ভ্যানের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।