বিল্লাল হোসেন : সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ওঠার সাথেই টোকা (মাথাল), কোদাল হাতে নবীন-প্রবীণ অনেকে জড়ো হয় যশোরের শার্শার উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খালের দুই পাড়ে। অনেকে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণের অপেক্ষায় আছেন তারা। তাদের অপেক্ষার পালা শেষ হয় বেলা পৌনে ১২ টায়। প্রধানমন্ত্রী খাল পাড়ে আসতেই গ্রামবাসীর খুশির উচ্ছ্বাস শুরু হয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উলাশী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন যিনি ১৯৭৬ সালেও জিয়াউর রহমানের খাল-খনন অনুষ্ঠানে ছিলেন, আজকেও তিনিও এসেছেন। নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে স্মৃতিচারন করেন ওই দিনটির।
শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে স্কুল মাঠে নেমেছিলেন। হেঁটে এসে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে দেন। সেই ঝুড়ির মাটি তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। আমার মাথার টোকা (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন।
সেদিন খাল কাটা উদ্বোধনে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। পরে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন খাল কাটার কাজে। হাজার হাজার মানুষ বিনা টাকায় খাল কাটার কাজে অংশ নেন। যারা কাজ করতেন, তাদের শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খাওয়ানো হতো। রাষ্ট্রপতিকে ভালোবেসেই মানুষ খাল কাটতে নেমে পড়েছিলেন।
কৃষক সাদেক আলী বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি মরে গেছে। সেচের অসুবিধা হয়। এটি পুনঃখনন হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন করতে এখানে আসছেন গ্রামের মানুষ-জন কত যে খুশি আমি বুঝাইয়া বলতে পারব না।
উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ফলক এখনো আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফলকটি পরিস্কার করা হয়েছে। এতে লেখা-‘উলসী-যদুনাথপুর বেতনা নদীর সংযোগ প্রকল্প। দেশব্যাপি স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণউপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে উদ্বোধন করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১ নভেম্বর ১৯৭৬। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্তম্ভের উলটো পিঠে আরেকটি ফলক রয়েছে। তাতে লেখা-‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার। স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উলাসী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের সঙ্গে যশোরবাসীদের প্রত্যয় প্রদীপ্ত করে গেলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, প্রেসিডেন্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭।
উলাশী গ্রামের এক গৃহবধু ফাতেমা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৫০ বছর আগে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন করেছিলেন। তার দেখানো পথেই আজকে ছেলে এসেছেন খাল কাটতে। আমরা ভাগ্যবান খুব কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পেরেছি।
৭০ বছর বয়সের আলী হোসেন বলেন, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছি। তার জন্য রজনিগন্ধা ফুল নিয়ে এসেছি। কাছে তো যাইতে পারব না, দূর থেকে রজনিগন্ধা ফুল দেখাব প্রধানমন্ত্রীকে।
আলী হোসেনের মত শ’শ’ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রজনিগন্ধা হাতে অপেক্ষায় ছিলো। প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছানোর সাথেই রজনীগন্ধা দেখিয়ে দূর থেকে বরণ করে নেন।