অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : দিনে-রাতে সমানে চুরি, দোকানের শাটার ভাঙার সুযোগ পেলেই চোরের দল নিয়ে যাচ্ছে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোটরসাইকেল, ইজিভ্যান, গরু, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল, এমনকি বৈদ্যুতিক তারও। দিনে-রাতে একের পর এক চুরির ঘটনায় যশোরের অভয়নগরে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে নওয়াপাড়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে নওয়াপাড়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৯টি বাড়ি, দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় এক ডজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি কিংবা বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে অন্তত পাঁচটি ইজিভ্যান চুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে অনেক ঘটনায় থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না হওয়ায় প্রকৃত চুরির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ উপজেলার বাহিরঘাট গ্রামে সেচের মোটর চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে দুই ব্যক্তি আটক হন। এর আগে নওয়াপাড়া পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার সাগরিকা শপিং মলের দুটি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় নগদ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা খোয়া যায়। নওয়াপাড়া মডেল স্কুল রোডের একটি বাড়িতে দিনের বেলায় ঢুকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগও রয়েছে। শুধু বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, চোরের নজর পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বৈদ্যুতিক সংযোগেও। নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার বৈদ্যুতিক তার এক মাসে তিনবার কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভয়নগরের বাঘুটিয়া, ইছামতি, বাশুয়াড়ী ও নওয়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকাতেও গরু, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোটরসাইকেল, দোকানের মালামাল ও বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফাঁকা রেখে বাইরে যেতেও আতঙ্ক বোধ করছেন অনেকে।
নওয়াপাড়া বাজারের কাপড় ব্যাবসায়ী সরোয়ার হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ধরা পড়লেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করতেও আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে নথিভুক্ত অভিযোগের বাইরেও আরও অনেক চুরির ঘটনা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী তুষার মোল্যা বলেন, চুরির ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা মনে হচ্ছে না। একের পর এক দোকান, বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলায়ও চুরি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, “চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে থাকলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চোরচক্র শনাক্তে অভিযান চালানো হবে। মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা ও চোরচক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।”