ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার ম্যাকাইয়ে ভিন্ন কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে। এখানকার উইকেটে বাউন্স কিছুটা বেশি,সঙ্গে বাতাসও পেসারদের বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় টেস্টে চার পেসার নিয়ে নামবে বাংলাদেশ, নাকি তিন পেসারেই আস্থা রাখবে এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে একাদশ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে চার পেসার খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। বরং জানিয়েছেন, স্কোয়াডে থাকা পাঁচ পেসারই প্রস্তুত। শান্ত বলেন, ‘উইকেটটা দেখে ভালো মনে হয়েছে। আমরা যে প্র্যাকটিস উইকেটে অনুশীলন করেছি, এখানে অবশ্যই একটু বাউন্স বেশি ছিল। আমাদের পাঁচজন পেসার স্কোয়াডে আছে, সবাই প্রস্তুত।’শুধু পেসারদের ওপর নির্ভর না করে স্পিনারদের সামর্থ্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলে থাকা দুই স্পিনার যেকোনো কন্ডিশনে ভালো করার সামর্থ্য রাখেন বলে মনে করেন তিনি। ‘পজিটিভ দিক হলো, আমাদের দুইজন স্পিনার আছে, যারা যেকোনো কন্ডিশনে ভালো বল করে। যেহেতু আরও একটু সময় আছে, সকালে এসে আরেকবার উইকেট দেখে দলের জন্য যে সিদ্ধান্তটা ভালো হবে, সেটাই নেব ইনশাআল্লাহ,’ বলেন শান্ত। অর্থাৎ একাদশে পেসার বাড়ানোর ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের সকালে উইকেট দেখে। টসের আগে কন্ডিশন ও আবহাওয়ার পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাকাইয়ের বাতাসও বাংলাদেশের পেসারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শান্তর মতে, বাতাস কাজে লাগাতে পারলে বাড়তি সুইং আদায় করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ‘বাতাসের কারণে বোলাররা একটু সাহায্য পাবেই। সুইং হয়তো একটু বাড়তি পেতে পারে। বাতাসটা যদি বোলাররা ব্যবহার করতে পারে, অবশ্যই বোলারদের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা থাকবে,’ বলেন তিনি। ডারউনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিল পেস আক্রমণ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। দ্বিতীয় ইনিংসেও হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে চাপে ছিল স্বাগতিকরা। ফলে ম্যাকাইয়ে চার পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত এলে সেটিও হবে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা। এদিকে চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকা শরিফুল ইসলামও এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তাকে নিয়ে শান্ত বলেন, শরিফুল ভালো বোলিং করছেন এবং সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার সামর্থ্য তার আছে। সব মিলিয়ে ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পেসার সংখ্যা নিয়ে। চার পেসার খেলালে শরিফুলের ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর তিন পেসারে থাকলে ডারউইনের সফল বোলিং কম্বিনেশনই ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। সেই সিদ্ধান্তের উত্তর মিলবে আজ ম্যাচের সকালেই।