পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদের বেড়ীবাধ ও তীরের কেটে নিয়ে পাহাড় সম মাটি উচু করেছে এফএফ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। কপোতাক্ষ নদের তীরে পুকুরের মত গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় যে কোন সময় নদের জোয়ারে বেড়ীবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে ওই ইটভাটার মালিকের দাবি এটি তাঁর লিজ নেয়া জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটেছে। ইট তৈরির মৌসুমের আগেই পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদের চর ও তীরের মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় লোকজন। তাছাড়া ভাটার ধোয়া ও ছাইয়ের প্রভাবে উত্তর পাশে বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের ফসল ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলার প্রায় সবকটি ভাটা কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে। গদাইপুর ইউনিয়ানের পুরাইকাটি বিলে নদের তীরে দুইটি ইটভাটা রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ইট তৈরির জন্য ভাটা মালিকেরা চর ও নদীর তীর থেকে মাটি কাটা শুরু করেছেন। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর ইট তৈরির মৌসুম শুরু হলে ইটভাটাগুলোর মালিকেরা শ্রমিক দিয়ে নদীর চর ও তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যান। কিন্তু এ বছর মৌসুম শুরুর আগেই মাটি কাটা শুরু হয়েছে। এতে করে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে নদীর তীর থেকে মাটি কাটা চলতে থাকলে আগামী দু–এক বছরের মধ্যে বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। এফ এফ ব্রিকসের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার বলেন, যে জায়গার মাটি কাটা হচ্ছে, সেই জায়গা লিজ নেয় ও সরকারি জায়গা টুকটাক আছে। মাটিকাটা জায়গা জোয়ার ভাটায় আবার ভরাট হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাইকগাছা কার্যালয়ের এসও মোতালেব হোসেন বলেন, বেড়ীবাধ ও নদের পাশ থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটা যাবে না। বাঁধ ঝুকিতে রেখে নদের তীর থেকে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি নদের তীর থেকে মাটি কাটা হয় এবং চর দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়, তাহলে এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।