নিজস্ব প্রতিবেদক।। সৌদি প্রবাসী নারীকে বিয়ে করে পাচারের ঘটনায় জব্বার আলী ও তার স্ত্রী ময়না খাতুনকে আটক করেছে যশোরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গার গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক দুইজন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কবিখালী-কাথুলী গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চৌগাছার কল্পনা খাতুনের বোন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফেসবুকের মাধ্যমে আসামি জব্বার আলীর সঙ্গে তার পরিচয় এবং দেশে ফিরে তারা ২০২১ সালের ১১ মার্চ বিয়ে করেন। জব্বার আলীর স্ত্রী ও সন্তান থাকায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জব্বার তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মাসিক এক লাখ টাকা এবং মোট পাঁচ লাখ টাকা নেয়। এরপর জব্বার অপর আসামিদের সহযোগিতায় তার বোনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২৪ মার্চ সৌদি আরবে পাঠিয়ে মানব পাচার চক্রের কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘদিন তার বোনের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জব্বার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তার বোন মোবাইল ফোনে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পাচারের বিষয়টি অবহিত করেন। তার বোনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জব্বার আলীকে গত ১ মে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে জব্বার। গত ৭ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জব্বার আলীকে যশোর শহরের পালবাড়ি মোড়ে জনগণের সহযোগিতায় ধরে তার বোনকে ফিরিয়ে আনার জন্য বলেন। জব্বার আলী তার বোনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না বলে জানিয়ে, বাড়াবাড়ি করলে সৌদি আরবে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে অভিযোগটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি জব্বার ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।