নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, বরং বিশাল জনগোষ্ঠী উপকৃত হয় এমন স্থায়ী উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত হতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও মহেশপুরের কৃতী সন্তান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। নাড়ির টানেই তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার বিকালে মহেশপুর সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন মহেশপুর অফিসার্স ফোরাম-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এলাকার ক্রীড়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে নিজের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন-সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরে প্রথম ধাপেই যেন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়, সে জন্য তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নীর মাধ্যমে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেয়া হয়েছে। একই বিষয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও অফিসার্স ফোরামের সভাপতি আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অফিসার্স ফোরাম-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন অফিসার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এলাকার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, মহেশপুর হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল তার অন্যতম অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন-ঐতিহাসিক দত্তনগর কৃষি ফার্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা তার বড় একটি স্বপ্ন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিউর রহমানের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তার অনুরোধে আইনমন্ত্রী ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত ডিও লেটার দিয়েছেন। এ ছাড়া কোটচাঁদপুরের বলুহর বাওড়কে একটি আন্তর্জাতিক মৎস্য প্রজনন গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মহেশপুর-কোটচাঁদপুর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান রাষ্ট্রের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজিবি প্রধান তাকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। শেষাংশে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, যেকোনো ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজের সহযোগী হতে আমি সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু কোনো টাউট-বাটপার বা অপরাধীকে আমি কখনোই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেব না। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালনে তিনি এলাকার সবস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।