ফরহাদ খান, নড়াইল: এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে নড়াইলের নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনি মিয়া শেখকে (৪৩) কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের আয়োজনে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নড়াগাতী থানার সামনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, নিহত ইউপি সদস্য মনি মিয়ার বৃদ্ধ মা ফরিদা বেগম, স্ত্রী মনিকা বেগম, মেয়ে বৈশাখী খানম, ছেলে নিশান শেখ, বড় ভাই পিরু মিয়া শেখ, বোন লিলি বেগমসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় পুঠিমারি বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে চর-জয়নগর গ্রামের সোনা মিয়া শেখের ছেলে ইউপি সদস্য মনি মিয়াকে পানিপাড়া এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ আনসার জমাদ্দার, মামুন জমাদ্দার, ইসরাফিল, সদর শেখ, সাদ্দাম, রাজু, রোমান, ফহম সিকদারসহ তাদের লোকজন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবি করেন বক্তারা। অন্যথায় তিনদিন পর কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন তারা। মনি মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে তাদের পক্ষের আকরামকেও কুপিয়ে হত্যা করে আনসার জমাদ্দারের লোকজন। আকরাম হত্যারও বিচার পাননি তারা। এমন অভিযোগ করেন বক্তারা। নিহত মনি মিয়ার মেয়ে বৈশাখী (১৯) জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় পুঠিমারি বাজার থেকে দুইজন সঙ্গীসহ বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে পানিপাড়া গ্রামের জাহিদ মেম্বারের বাড়ির সামনের রান্তায় তার বাবার হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর মারা বৃহস্পতিবার ভোরে যান তিনি। শনিবার সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে মনি মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৈশাখী বলেন, জ্বরের ওষুধ কিনতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘাতকরা আমার বাবার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আব্বু ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই। আমি এখন কলেজে পড়ছি। আমার ছোট ভাই নিশান নবম শ্রেণিতে পড়ে। আর এক বছরের আরেক ভাই আছে। আমরা এখন কী করব। কে ধরবে সংসারের হাল। নিহত ইউপি মেম্বারের স্ত্রী মনিকা বেগম আহাজারি করে বলেন, তিনটি সন্তান নিয়ে এখন আমি কী করব। কোথায় গিয়ে ঠাঁই পাবো। নড়াগাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আশীষ সরকার বলেন, মনি মিয়া হত্যাকান্ডে জড়িতদের ধরতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।