নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘কান সে কবির ছন্দ বাজে ঝরো ঝরো বরিষনে’- এই আবহমান সুর ও ভাবধারাকে উপজীব্য করে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যশোর জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘শ্রাবণসন্ধ্যা ১৪৩৩’। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঋতুবৈচিত্র্যের রূপসী বর্ষাকে গান, নাচ, কবিতা আর কথামালায় আবাহন জানানো হয়। পুরো মিলনায়তন জুড়ে ছিল সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। তানপুরার শান্ত ও স্নিগ্ধ সুরের ঝংকার এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘সোনার তরী’-র আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। এরপরই শাস্ত্রীয় সংগীতের মেঘমল্লার রাগের গম্ভীর ও গুরুগম্ভীর সুরের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয় এক মনোমুগ্ধকর দ্বৈত নৃত্য। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই জমকালো আয়োজনে শিশু-কিশোর ও জ্যেষ্ঠ মিলিয়ে শতাধিক শিল্পী তাদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা তুলে ধরেন। বর্ষার চিরায়ত রূপ ও গুরুত্বকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছিল পুরো সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। তবে এর মাঝে গোবিন্দ, নাহার, মুস্তাহীদ, কানিজ ও সুব্রতের একক কণ্ঠের গান উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে বিমোহিত ও মুগ্ধ করে। সঙ্গীত, নৃত্য ও কবিতার সম্মিলিত এই আবেশ দর্শকশ্রোতাদের জন্য রেখে যায় এক অবিস্মরণীয় শ্রাবণসন্ধ্যার স্মৃতি। অনুষ্ঠানে ছিলনা কোনো আলোচনা। তবে কাজী শাহেদ নওয়াজ এর কন্ঠে অনুষ্ঠানের ধারাবর্ণনা ছিল চমৎকার।