নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির বাগডাঙ্গা বাদামতলার বিএনডি শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও মুন্সী আন্তার উদ্দিন এতিমখানায় কমিটি নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই বলেছেন, সম্প্রতি মাদ্রাসায় তালাকান্ডের ঘটনায় সমালোচিত মনিরুল ইসলাম মনিকে কমিটির সেক্রেটারি করা তারা মেনে নিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি মনিরুল ইসলাম (মনি) সেক্রেটারি পদ দখল করেছেন। ‘শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বাদামতলায় বি এন ডি শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও মুন্সী আন্তার আলী এতিমখানার কমিটি গঠন করা হয়। নবাগত কমিটিতে সভাপতি পদে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন ও সেক্রেটারি পদে মনিরুল ইসলাম মনি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে কেউ কেউ এই কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ করে মনিকে সেক্রেটারি করায় এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, গত ২৭ জুন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অনুপস্থিত অভিভাবকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল। বারবার খবর দেওয়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী উর্মি খাতুনের বাবা, ছোট দোগাছিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী উজ্জল হোসেন শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি মুঠোফোনে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গালিগালাজ করেন। এমনকি ২৫ জুন উজ্জল হোসেন শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় উজ্জলের সঙ্গে ছিলেন শাহাজান, ইমান আলী, হাকিম ও নেজো। মাদ্রাসায় তালা ঝুলানোর ঘটনায় শেল্টার দেন চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি। পরে তিনি আবার তালা খুলে দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই মনিকে মাদ্রাসার সেক্রেটারি করায় এলাকার অনেকেই এখন ক্ষুব্ধ। নবনির্বাচিত কমিটির সহসভাপতি মশিউর রহমান টিটো জানান, মনিরুল ইসলাম মনিকে কমিটির সেক্রেটারি করায় এলাকার অনেকেই কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এলাকায় সবাই একজনকে পছন্দ করবেনা এটাই স্বাভাবিক। নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন জানান, রবিউল ইসলামের প্রস্তাবে মনিরুল ইসলাম মনিকে সেক্রেটারি করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাব না মানলে ঝামেলার সৃষ্টি হতো। তিনি (মনি) যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে তাহলে আগামীতে বিকল্প চিন্তা মাথায় আছে। নবনির্বাচিত কমিটির সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম মনি জানান,তিন গ্রামের মানুষের সমর্থনে তাকে সেক্রেটারি করা হয়েছে। একজন মানুষ সকলের প্রিয় হতে পারে না। যারা তাকে অছন্দ করেন, তারাই বিভিন্ন কথাবার্তা রটাচ্ছে। তালাকান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, উজ্জল নামে একজন অভিভাবক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই তালা খুলে দেন।